সংবাদদাতা, বালুরঘাট: কয়েকদিন আগেই গঙ্গারামপুরের রাকেশ পণ্ডিতকে সরিয়ে বালুরঘাট কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে প্রতীক রাম মণ্ডলকে। কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার পর সোমবার প্রথম কলেজে আসতেই প্রতীককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাল কলেজের টিএমসিপি ইউনিট। এনিয়ে এদিন ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় বালুরঘাট কলেজে।
অভিযোগ, বহিরাগত ছাত্রদের নিয়ে সভাপতি সোমবার কলেজে আসেন। বহিরাগতদের নিয়ে কেন কলেজে এলেন, এই প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কলেজ শাখা ইউনিট। অধ্যক্ষের রুমের সামনে আটকে দেওয়া হয় সভাপতি সহ তাঁর সঙ্গে আসা অনুগামীদের। বিক্ষোভের জেরে বহিরাগতদের বাইরে বের করে তবেই প্রতীককে ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেন ছাত্ররা।
টিএমসিপি ইউনিটের পড়ুয়ারাই কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতিকে বিক্ষোভ দেখানোয় শোরগোল পড়ে গিয়েছে বালুরঘাটে। পরিচালন সমিতির সভাপতি আবার মন্ত্রী বিপ্লব মিত্রের ঘনিষ্ঠ। এদিকে বিক্ষোভকারী ছাত্ররা বিপ্লব বিরোধী গোষ্ঠীর। যদিও গোষ্ঠীকোন্দলের কোনও ব্যাপার নেই বলে দাবি টিএমসিপির জেলা সভাপতি অমরনাথ ঘোষের। তাঁর কথায়, পরিচালন সমিতির সভাপতি প্রশাসনিক পদ। কলেজে কী হয়েছে জানি না। তবে, এর সঙ্গে টিএমসিপির কোনও যোগ নেই। কারণ, কলেজে ছাত্র ইউনিয়ন নেই।
এদিন, সভাপতিকে ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান টিএমসিপির নেতাকর্মীরা। পাল্টা বিপ্লব ঘনিষ্ঠ অনুগামী ছাত্র-যুবরাও কলেজ গেটে ভিড় করেন। মুহূর্তে কলেজ চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আসে বিশাল পুলিসবাহিনী। কলেজের অধ্যক্ষ পঙ্কজ কুণ্ডুর দাবি, কলেজে বিক্ষোভ হয়নি। যারা এসেছিল, তারাও এই কলেজের ছাত্র। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতিকে ঘিরে বিক্ষোভ কেন? বিক্ষোভকারী ছাত্রদের মধ্যে প্রলয় দাস বলেন, সভাপতি কলেজে ঢুকবেন সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু তিনি বেশকিছু বহিরাগত ছাত্রকে নিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অপ্রকৃতস্থ অবস্থায় ছিল। পুরনো মামলাও রয়েছে। প্রলয়ের সংযোজন, সভাপতিকে আমরা ফুল দিয়ে সংবর্ধনা দিতে রাজি। কিন্তু কোনও বহিরাগতকে কলেজে ঢুকতে দেব না।
যদিও বহিরাগত তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়েছেন প্রতীক। বলেছেন, বহিরাগত ছাত্রদের কোনও বিষয় এখানে নেই। যারা আপত্তি জানিয়েছিল, তারা প্রিন্সিপালের কাছে এসেছিল। প্রিন্সিপাল বোঝানোর পর সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে গিয়েছে।
এতদিন বালুরঘাট কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি ছিলেন মন্ত্রী বিপ্লব বিরোধী গোষ্ঠীর গঙ্গারামপুর পুরসভার কাউন্সিলার রাকেশ। ১০ মাসের মধ্যে তাঁকে বদল করে আনা হয়েছে হিলি ব্লকের মানিকো আদিবাসী হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক তথা বালুরঘাট শহরের বাসিন্দা প্রতীককে। তাঁর ভাই প্রীতম রাম মণ্ডল তৃণমূলের টাউন প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রীর কাছের লোক বলে পরিচিত। সোমবার পরিচালন সমিতির আরও দুই নমিনি বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্র এবং বালুরঘাট হাইস্কুলের শিক্ষক রঞ্জন গঙ্গোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়েই সভাপতি কলেজে পা রাখেন। এরপরেই শুরু হয় বিক্ষোভ। কলেজের ভিতরে পরিচালন সমিতির সদস্যরা থাকলেও বাইরে ছিলেন প্রীতম রাম মণ্ডল সহ অন্য ছাত্রনেতারা। যা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। নিজস্ব চিত্র।