Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খড়্গপুরে ভাণ্ডারিয়ায় শ্মশানকালী পুজো ও মহামেলার প্রস্তুতি শুরু

খড়্গপুর-২ ব্লকের ভাণ্ডারিয়া কালীপুজো ও মহামেলার প্রস্তুতি ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে

খড়্গপুরে ভাণ্ডারিয়ায় শ্মশানকালী পুজো ও মহামেলার প্রস্তুতি শুরু
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, খড়্গপুর: খড়্গপুর-২ ব্লকের ভাণ্ডারিয়া কালীপুজো ও মহামেলার প্রস্তুতি ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। এবছর ১২এপ্রিল শনিবার শ্মশানকালী পুজো হবে। তার পরদিন অর্থাৎ রবিবার অবধি মেলা থাকবে। বিভিন্ন পঞ্জিকায় প্রায় ২০০বছরের প্রাচীন এই মেলার উল্লেখ আছে। এবছর মেলায় রেকর্ড ভিড় হবে বলে উদ্যোক্তারা আশাবাদী।

Advertisement

এবছর মেলার সঙ্গে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও আয়োজিত হচ্ছে। বিশেষ চমক হিসেবে থাকছে যাত্রাপালা। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তো বটেই, ভিনজেলা থেকেও ব্যবসায়ীরা এসে মেলায় পসরা সাজিয়ে বসেন। ফলে এবছর মেলায় শতাধিক স্টল থাকছে। উদ্যোক্তারা জানান, শনিবার পুজোর দিনই মূর্তি গড়া হয়। কাঁচা মাটির মূর্তিতে পুজো হয়। এরপর বলিদান শেষ হলেই মূর্তি বিসর্জন দেওয়া হয়।
জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ বলেন, ভাণ্ডারিয়ায় আমার মামার বাড়ি। ছোটবেলা থেকেই এই পুজো দেখে আসছি। খুব নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করা হয়। সবাইকে এই পুজো ও মেলায় আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। স্থানীয় বিধায়ক অজিত মাইতি বলেন, পুজোয় প্রচুর মানুষ আসবেন। এখানে মা কালী খুব জাগ্রত। প্রায় ২০০বছর আগে অখণ্ড মেদিনীপুর জেলায় শ্মশানকালী পুজো ও মহামেলা শুরু হয়েছিল। গবেষকরা জানান, শস্যভাণ্ডার হিসেবে এই গ্রামের নাম হয় ভাণ্ডারিয়া। জনশ্রুতি অনুযায়ী, কোনও এক মহামারির হাত থেকে গ্রামবাসীদের রক্ষার্থে এক কাপালিক প্রথম শ্মশানকালী পুজো শুরু করেছিলেন। সেই সময় থেকে প্রতি বছর চৈত্র মাসের শেষ শনিবার বার্ষিক কালীপুজো ও মহামেলা হয়। ওই শনিবার সংক্রান্তি হলে তার আগের শনিবার এই পুজো ও মেলা হয়। দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ের মাদপুর স্টেশন থেকে দক্ষিণে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে এই মন্দিরটি রয়েছে। কৃষ্ণ চতুর্দশীতে মন্দিরে বিশেষ পুজো হয়। ওই দিনও বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম ঘটে। গ্রামবাসী ও ভক্তদের দানে মন্দিরটি সুন্দর করে গড়ে তোলা হয়েছে। পুজো ও মেলা কমিটির সদস্যরা জানান, খড়্গপুরের বাসিন্দা উজ্জ্বল সেনগুপ্ত মন্দিরের উন্নয়নে প্রতিবছর বিশেষভাবে সহযোগিতা করেন। মন্দিরের উন্নয়নের জন্য প্রাক্তন বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র, জেলা প্রশাসনের তরফেও সহযোগিতা করা হয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক অজিত মাইতি ও জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ বিভিন্নভাবে সহায়তা করেন। পুজো কমিটির সম্পাদক রিবন রায় ও সভাপতি রন্টুকুমার মণ্ডল বলেন, আমরা সবসময় মন্দিরের উন্নয়ন ও মেলার সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়েছি। সবার সহযোগিতা ছাড়া এত বড় মাপের পুজো ও মেলা আয়োজন সম্ভব হতো না।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ