নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি ও ময়নাগুড়ি: ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দুর্যোগ বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গ। এখন শিলিগুড়ি, ধূপগুড়ি ও ময়নাগুড়িতে শুরু হয়েছে বাঙালির দ্বিতীয় মেগা উৎসব কালীপুজোর প্রস্তুতি। কোথাও ঢাক বাজিয়ে খুঁটিপুজো করে মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। আবার কোথাও প্রাচীন রীতি মেনে পুজোর প্রস্তুতি। সেই সঙ্গে থিম পুজোর ভাবনাতেও মজেছেন ক্লাব কর্তারা। সকলেরই বক্তব্য, দুর্যোগের ক্ষত মিটিয়ে ব্যবসা, বাণিজ্য চাঙ্গা করার আর্জি নিয়ে শক্তির দেবী কালীর আরাধনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ছ’দিন আগে শনিবার প্রকৃতির রোষে কার্যত তছনছ হয়ে যায় পাহাড় ও সমতল। এখন বেশকিছু জায়গায় ধ্বংসের চিহ্ন রয়েছে। বিধ্বস্ত এলাকা পুনর্গঠনে ঝাঁপিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাস্তা, পর্যটন কেন্দ্র, বাস পরিষেবা চালু করা হয়েছে। এবার দ্বিতীয় মেগা উৎসব নিয়ে মাততে চলেছে শিলিগুড়ি। সেভক কালীবাড়ি এবং আনন্দময়ী কালীবাড়িতে চলছে পুজোর প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে সেভক কালী মন্দির সংস্কার করা হয়েছে। মন্দিরের পুরোহিত লক্ষ্ণণভাদুড়ি বলেন, প্রাচীন রীতি মেনে এবারও মন্দিরে পুজো হবে।
শহরের হায়দরপাড়ার স্বামীজী ক্লাবের পুজোতেও থাকছে চমক। বৃহস্পতিবার ঢাক বাজিয়ে ক্লাবের মাঠে করা হয় খুঁটিপুজো। ক্লাবের অন্যতম সদস্য অশোক দে বলেন, এবার বিভিন্ন ধরনের কাপড়, আলো দিয়ে মণ্ডপ সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। আলো ও সাউন্ডের খেলায় মণ্ডপে ফুটে উঠবে নানা রঙের খেলা। এজন্য থিমের নামকরণ করা হয়েছে ‘রংবাজি’। দুর্যোগের আঘাত সামলে সকলে যাতে স্বাভাবিকভাবে জীবন-যাপন করতে পারেন, কালী মা’র কাছে সেই আর্জি নিয়েই পুজোর প্রস্তুতি নিচ্ছি।
কালীপুজোর জন্য উত্তরবঙ্গে পরিচিত নাম ধূপগুড়ির। দুর্যোগের ক্ষত ভুলতে এবারও এখানকার ক্লাবগুলি কালীপুজো নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে। পSহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলা নিয়ে কালীপুজোয় থিম করে চমকে দিতে চায় ধূপগুড়ির ডাংডিং ক্লাব। এবার এখানকার পুজোর ৫৭তম বর্ষ। ইসকনের মায়াপুরের চন্দ্রদয় মন্দিরের আদলে মণ্ডপ গড়ে চমক দিতে চায় এসটিএস ক্লাব। সুহৃদ সংঘ পাঠাগারের থিম ইন্দ্রপুরী। এখানে ভগবান ইন্দ্রের সভাস্থলের চিত্র তুলে ধরা হবে। নেতাজিপাড়া কালচারাল ও অ্যাথলেটিক ক্লাব তামিলনাড়ুর মীনাক্ষী মন্দিরের আদলে মণ্ডপ গড়বে।
বিপর্যস্ত ময়নাগুড়িও স্বাভাবিক হচ্ছে। এখানেও কালীপুজোর প্রস্তুতি তুঙ্গে। ময়নাগুড়ির জাগরণীর পুজোর থিম এআই আর্শীবাদ না অভিশাপ। দুর্গাপুজোর আগে থেকে এখানে মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এখানে চন্দননগরের আলোকসজ্জা করা হবে। পুজো কমিটির সম্পাদক তুহিনকান্তি চৌধুরী বলেন, কালী মা’র আর্শীবাদে দুর্যোগ সামলে উঠছি। আশা করছি, এবারও এখানকার পুজোতে দর্শনার্থীদের ভিড় হবে।