Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রথম রথযাত্রা উপলক্ষ্যে জগন্নাথ মন্দিরে প্রস্তুতি তুঙ্গে, সেজে উঠছে মাসির বাড়িও

দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে এবারই প্রথম রথের চাকা গড়াবে। আগামী ২৭জুন রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে জোরদার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

প্রথম রথযাত্রা উপলক্ষ্যে জগন্নাথ মন্দিরে প্রস্তুতি তুঙ্গে, সেজে উঠছে মাসির বাড়িও
  • ১৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে এবারই প্রথম রথের চাকা গড়াবে। আগামী ২৭জুন রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে জোরদার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রথযাত্রার দিন দীঘায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হতে পারে ধরে নিয়ে পুলিস-প্রশাসন ইতিমধ্যেই তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে।

Advertisement

রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা তিনটি রথে চেপে মূল মন্দির থেকে মাসির বাড়ি যাবেন। উল্টোরথ পর্যন্ত তাঁরা সেখানেই থাকবেন। তাই সেজে উঠছে আদি জগন্নাথ মন্দির বা মাসির বাড়ি। পাশাপাশি সেখানে বসবে মেলা, দোকানপাট। ভক্তদের জন্য ভোগের ব্যবস্থা থাকবে। ইতিমধ্যে সেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এর আগেই তৈরি করা হয়েছে তিনটি বড়সড় রথ– নন্দীঘোষ, তালধ্বজ ও দেবদোলন। রথগুলি সুসজ্জিত হয়ে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। মূল মন্দির থেকে মাসির বাড়ি পর্যন্ত যাতে সুষ্ঠুভাবে রথ আসতে পারে, তারজন্য ইতিপূর্বেই মহড়া হয়েছে। রথযাত্রা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে জেলা পুলিস ও প্রশাসন একাধিকবার বৈঠক করেছে। 
জগন্নাথ মন্দিরের ৭নম্বর গেট দিয়ে তিনটি রথ বের হবে। রথে থাকবে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার নিমকাঠের মূর্তি। রথযাত্রার উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৬জুন মুখ্যমন্ত্রী দীঘায় এসে পৌঁছবেন। পুরীর ধাঁচে সোনার ঝাঁটা দিয়ে রথের সামনের রাস্তা পরিষ্কার করবেন তিনি। আগত পুণ্যার্থী, পর্যটক সহ সকলে যাতে রথের রশি ছুঁতে পারেন, সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে অনেকটা রাস্তাজুড়ে থাকবে রথের রশি। ইতিমধ্যেই মাসির বাড়ির সামনে রথ রাখার জন্য পাথরের স্ল্যাবের চাতাল তৈরি হয়েছে। সংলগ্ন ঝাউবনে ঘাসের গালিচা তৈরি করা হয়েছে। ঢোকার মুখে বিশালাকার তোরণ তৈরি হচ্ছে। পুরনো জগন্নাথ মন্দিরের পাশে আর একটি ছোট মন্দির তৈরি হয়েছে। এই পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ৭৫লক্ষ টাকা খরচ করা হচ্ছে। 
গত ১১জুন স্নানযাত্রার পর জগন্নাথদেব লোকচক্ষুর অন্তরালে গিয়েছেন। ২৬জুন আবার ভক্তদের দর্শন দেবেন প্রভু জগন্নাথ। পরদিন তিনি দাদা ও বোনের সঙ্গে রথে চড়বেন। আদি জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্টির সভাপতি সুশীল প্রধান বলেন, রথযাত্রার দিন থেকে এখানে মেলা বসবে। সপ্তাহব্যাপী ভোগের ব্যবস্থা থাকবে। উল্টোরথের দিন বহু ভক্তকে অন্নভোগ খাওয়ানো হবে। মন্দিরের আশপাশে ১০০টি দোকান বসবে।
জানা গিয়েছে, নতুন জগন্নাথ মন্দির থেকে আদি মন্দির পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তায় কিছুদূর অন্তর এলইডি স্ক্রিন লাগানো থাকবে। সেগুলির মাধ্যমে ভক্তরা সরাসরি রথযাত্রা দেখতে পাবেন। জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের সময়ের মতোই রথযাত্রা উপলক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। প্রচুর পুলিস মোতায়েন করা হবে। থাকছে অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম, সিসি ক্যামেরা এবং ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি। যানচলাচলেও বিধিনিষেধ থাকবে। উদ্বোধনের সময় দীঘায় যেভাবে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল, এবারও সবকিছু সেইভাবেই হবে। মেডিক্যাল ক্যাম্প, ‘মে আই হেল্প ইউ’ ক্যাম্প, জলসত্রের ব্যবস্থাও থাকবে।
জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, রথযাত্রা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। আমরা সবরকম প্রস্তুতিই নিচ্ছি। ডিএসপি(ডিঅ্যান্ডটি) আবু নুর হোসেন বলেন, সুরক্ষা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ