নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইডেনের গ্যালারিতে বাবার কোলে ছ’বছরের ছোট্ট বৈভব। তুলতুলে গালে লাল রঙে লেখা আর পি। সোশ্যাল সাইটে রীতিমতো ভাইরাল এই ছবি। হবে না-ই বা কেন? আট বছরের ব্যবধানে সেদিনের খুদেই এখন ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন তারকা। সোমবার আইপিএলে কনিষ্ঠতম ব্যাটার হিসেবে ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরির পর বৈভব সূর্যবংশীতে মজে গোটা দেশ। রাজস্থানের রাজপুত্রকে ঘিরে আছড়ে পড়ছে প্রশংসার ঢেউ।
সোয়াই মানসিং স্টেডিয়াম থেকে ১১৭৭ কিলোমিটার দূরে সমস্তিপুর। সোমবার রাতে দুই প্রান্তেই অকাল দেওয়ালি। ইশান্ত শর্মা, রশিদ খান, করিম জানতরা তুলোধোনা। সাদা বল ফেন্সিং টপকে বেলুনের মতো ভেসে গেল গ্যলারিতে। সমস্তিপুরের বাড়িতে ঠিক তখনই আকাশে উড়ল হাউই। দেদার বাজি, মিষ্টিমুখ। বাবার মুখে চওড়া হাসি। সঞ্জীব সূর্যবংশী বলেছেন, ‘ঠিক যেন আগাম দীপাবলি। গোটা বিহার আমার ছেলের জন্য গর্বিত। রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা ও রাজস্থান রয়্যালস টিম ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’ বৈভবকে ক্রিকেটার বানাতে মাথায় ঘাম পায়ে ফেলেছেন মা-বাবা। সকালে প্র্যাকটিস পৌঁছতে হবে ঠিক সময়ে। মাত্র দু’ঘণ্টা ঘুমিয়ে রাত দুটোয় রান্নাঘরে খুটখাট শুরু মায়ের। ছেলের টিফিন তৈরি করে তবে শান্তি। অন্যদিকে, মাঠের বাইরে বৈভবের মেন্টর ওর বাবা। একদিন খবরের কাগজে পড়েছিলেন প্রভসুখন গিলের কথা। ছেলের প্র্যাকটিসে সুবিধার জন্য সিমেন্টের পিচ তৈরি করে দেন গিলের বাবা। ব্যাস, আর যায় কোথায়? গ্যাঁটের কড়ি খরচ করে বৈভবের জন্যও পিচ বানিয়ে ফেললেন সঞ্জীব সূর্যবংশী।
বৈভবের ছোটবেলার কোচ মনীশ ওঝা হাতের তালুর মতো চেনেন ওকে। একতাল মাটি থেকে ছাঁচ গড়ার মতো করেই তৈরি করেছেন বৈভবকে। বললেন, ‘১-২ বছরের মধ্যেই জাতীয় দলে জায়গা করে নেবে বৈভব।’ ম্যাচের আগে টেলিফোনে কথা বলা প্রতিদিনের নিয়ম। জানা গেল, গুজরাত ম্যাচের সকালেও বৈভবকে ফোন করেন কোচ। তাঁকে অবাক করেই বিস্ময় কিশোর বলে ওঠে, ‘আজ শুরু থেকেই চালাব।’ মনীশের পাল্টা পরামর্শ-‘বল দেখে খেলিস। উইকেট ছুড়ে দিস না।’ নাহ, গুরুর কথা বাধ্য ছাত্রের মতো মেনেছে বৈভব। উইকেট ছুড়ে দেয়নি বটে, তবে বোলারদের রাতের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে ১৪ বছরের কিশোর।