নিউ ইয়র্ক: বিশ্বকাপের আঁচে গা সেঁকতে ইতিমধ্যে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছেন অনেকেই। ফুটবলের মহামঞ্চে প্রিয় দলের পাশে থাকার স্বপ্নে রীতিমতো বিভোর। ফ্যান জোনগুলো ভরে উঠবে তাঁদের বর্ণময় উপস্থিতিতে। তবে সেই ভিড়ের মধ্যে এবার দেখা যাবে না বেশ কিছু সুপারফ্যানকে, যাঁরা হয়তো ইতিমধ্যে সাক্ষী হয়েছেন একাধিক বিশ্বকাপের। আসলে টিকিটের দাম, ব্যয়বহুল ভ্রমণ এবং আমেরিকার ভিসা পাওয়া নিয়ে উদ্বেগের জেরে অনেক চেনা ফুটবল ভক্তই ‘রিটায়ার্ড আউট’-এর পথ বেছে নিয়েছেন।
লন্ডনবাসী আই টি কর্মী মাইক উইলসন গত ২০ বছরে চারটি বিশ্বকাপে গিয়েছেন। কিন্তু তাল কাটল মার্কিন মুলুকে। মনকে সান্ত্বনা দিতে, ওই সময় পর্তুগালের একটি সমুদ্রসৈকতে ছুটি কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনই আর এক ফুটবলপাগল সমর্থক এমিলিয়ানো বেসেরা। পেশায় চিকিৎসক এই আর্জেন্তাইন গত তিনটি বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বে মাঠে হাজির থেকেছেন মেসিদের হয়ে গলা ফাটাতে। কিন্তু এবার গ্রুপ পর্বের মাত্র দু’টি ম্যাচ দেখেই দেশে ফিরবেন বিপুল আর্থিক খরচের কথা মাথায় রেখে। আবার নেদারল্যান্ডসের পিটার বার্গাকার ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালে নিজেদের দলের খেলা দেখতে উড়ে গিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। কিন্তু এবার অরেঞ্জ ব্রিগেড যত দূরই যাক না কেন, আমেরিকা ভ্রমণ করবেন না তিনি।
বছর চারেক আগে, গ্রুপ পর্বের ম্যাচের সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ছিল ৬৯ ডলার। এ বছর ফিফা সেই একই টিকিটের দাম ধার্য করেছে ২৬৫ ডলার! এখানেই শেষ নয়। রাশিয়া ও কাতারে অনুষ্ঠিত শেষ দু’টি টুর্নামেন্টে বিদেশি ভক্তদের জন্য আয়োজক শহরগুলিতে বিনামূল্যে পরিবহন ব্যবস্থা করেছিল। এবার সেই সুবিধা নেই। এই অবস্থায় আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকো জুড়ে বিস্তৃত ১৬টি স্টেডিয়ামের ভৌগোলিক পরিসর এবং দূরত্বও মন ভেঙেছে সুপার ফ্যানদের।
আবার যাঁরা অনেক আগেই বিশ্বকাপ ভ্রমণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেলেছিলেন, তাঁদের এখন সাপের ছুঁচো গেলার দশা। যেমন টোকিওর বাসিন্দা তোমোনোরি আকুতসু, যিনি ইতিমধ্যে দেখে ফেলেছেন ৫টি বিশ্বকাপ। আমেরিকা উড়ে যাওয়ার আগে তাঁর কণ্ঠেও আক্ষেপের সুর। আকুতসু জানিয়েছেন, আগে যদি বুঝতে পারতেন যে, এবারের আসর কতটা ব্যয়বহুল তাহলে টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ দর্শনের সিদ্ধান্ত তিনি পুনর্বিবেচনা করতেন।