Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চিকিৎসার জন্য ঝুঁকি নিয়েই জঙ্গল পেরতে হয় প্রসূতিদের

নদী ও জঙ্গল পথে হেঁটেই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পৌঁছতে হয় বাঘমুণ্ডির ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী আটনা গ্রামের প্রসূতি মায়েদের।

চিকিৎসার জন্য ঝুঁকি নিয়েই জঙ্গল পেরতে হয় প্রসূতিদের
  • ২৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: নদী ও জঙ্গল পথে হেঁটেই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পৌঁছতে হয় বাঘমুণ্ডির ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী আটনা গ্রামের প্রসূতি মায়েদের। হাতির আতঙ্ক নিয়েই প্রায় তিন কিলোমিটারের বেশি বিস্তৃত জঙ্গল পার হন প্রসূতিরা। ঘুর পথে রাস্তা দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে প্রায় ১০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পেরতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামেই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র তৈরির দাবি জানিয়ে আসছেন বাসিন্দারা। 

Advertisement

বাঘমুণ্ডি ব্লকের তুনতুড়ি-সুইসা গ্রাম পঞ্চায়েতের একপ্রান্তে ঝাড়খণ্ড ঘেঁষা আটনা সংসদ। আটনা এবং বুড়াংবুরু এই দু’টি গ্রাম নিয়েই এই সংসদ। গ্রামে জনসংখ্যা প্রায় ২৪০০জন। ভোটারের সংখ্যাও প্রায় ১৪০০ ছাড়িয়েছে। আটনা গ্রাম থেকে প্রসূতি এবং মা ও শিশুদের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য যেতে হয় বীরগ্রাম পঞ্চায়েতের পাটাহেঁসেল গ্রামে। ঘুর পথে পাটাহেঁসেল যেতে হলে ১০ কিলোমিটার পথ পেরতে হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গেলে সারাদিনই চলে যায়। 
ওই গ্রামেরই বাসিন্দা উজান কালিন্দী বলেন, ঠিক কী কারণে যে দীর্ঘদিন আগে থেকেই অন্য গ্রাম পঞ্চায়েতের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সঙ্গে আটনা বাসিন্দাদের যুক্ত করা রয়েছে জানি না। পায়ে হেঁটে জঙ্গল পথে গেলেও ৬ কিলোমিটারের বেশি রাস্তা। তারমধ্যে প্রায় ৩ কিলোমিটার শুধু জঙ্গল রয়েছে। ওই রাস্তা দিয়ে সাইকেলও ভালো করে নিয়ে যাওয়া যায় না। মূল রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে ২০ কিলোমিটার হয়ে যায়। অতটা রাস্তা তো গাড়ি বা বাইক ছাড়া যাওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া রাস্তা এবং পানীয় জলেরও সমস্যা রয়েছে গ্রামে। সম্প্রতি গ্রামে বিধায়ক এসেছিলেন। তাঁকেও সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। তিনি সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। 
ওই গ্রামেরই আশাকর্মী শিখারানি মাহাত বলেন, দূরত্বের কারণে মা ও শিশুদের উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে ঠিক কতটা সমস্যা হয়, তা নিজের চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না। স্বাস্থ্য আধিকারিকরাও বিষয়টি জানেন। 
তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত তুনতুড়ি সুইসা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অষ্টমী কুইরি বলেন, আটনা গ্রামের বাসিন্দাদের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সমস্যা দীর্ঘদিনের। প্রায় চার কিলোমিটার দূরে পারসিডি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। সেখানের পরিবর্তে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে অন্য গ্রাম পঞ্চায়েতের উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে কেন বাসিন্দাদের যুক্ত করা হয়েছে, তা কেউ বলতে পারছেন না। তাছাড়া ওই গ্রামে জনসংখ্যা বেশি। সেখানে নতুন সাব সেন্টার করা প্রয়োজন। 
বাঘমুণ্ডির বিধায়ক সুশান্ত মাহাত বলেন, গ্রামে গিয়ে বাসিন্দাদের কাছে সমস্যার কথা শুনেছি। গ্রামের মহিলারও নিজেরা এসে তাঁদের পাটাহেঁসেলের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়ার সমস্যা সহ গ্রামের অন্যান্য সমস্যাগুলির বিষয়ে জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ