Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সংসার করার দাবি, আবাসনের সামনে ধর্না অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর

স্বামীর সংসার করতে চান গৃহবধূ। কিন্তু রেল কর্মচারী স্বামী এখন আর যোগাযোগ রাখছেন না। তাই দত্তপুকুরে স্বামীর বাড়ির সামনে বাবা ও মাকে সঙ্গে নিয়ে ধর্নায় বসলেন অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ।

সংসার করার দাবি, আবাসনের সামনে ধর্না অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর
  • ২২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: স্বামীর সংসার করতে চান গৃহবধূ। কিন্তু রেল কর্মচারী স্বামী এখন আর যোগাযোগ রাখছেন না। তাই দত্তপুকুরে স্বামীর বাড়ির সামনে বাবা ও মাকে সঙ্গে নিয়ে ধর্নায় বসলেন অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ। ওই বধূর বাপের বাড়ি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়। সোমবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুঞ্জন ছড়িয়েছে এলাকায়। দত্তপুকুর থানার পুলিস জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানা গিয়েছে, ওই গৃহবধূর নাম জুলেখা খাতুন। তাঁর বাড়ি বহরমপুরের বেলডাঙার দেবকুণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের সারুলিয়া ভূষিপাড়ায়। স্বামী মহম্মদ আজহারউদ্দিন দত্তপুকুর থানার ছোট জাগুলিয়া পঞ্চায়েতের বামনগাছি আবাসনে থাকেন। ওই বাড়িতেই থাকেন তাঁর বাবা, মা ও এক ভাই। বছর পাঁচেক আগে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে রেলকর্মী আজহারউদ্দিনের সঙ্গে জুলেখার পরিচয় হয়। এরপর তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জুলেখার দাবি, গত ৫ এপ্রিল তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। কাজি অফিসে বিয়ে করেছেন তাঁরা। পাশাপাশি রেজিস্ট্রি ম্যারেজও করেছেন। তারপর তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে ডে-আউটে গেলেও বিয়ের বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রেখেছিলেন। থাকতেন যে যাঁর বাড়িতে। গত মাসে জুলেখা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। তখন জানা যায়, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। পরিবার তখন বিয়ের বিষয়টি জানতে পারে। এরপর জুলেখার পরিবার আজহারউদ্দিন ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু পাত্রের পরিবার বেঁকে বসে। তাঁরা এই বিয়ে মানেন না বলে জানিয়ে দেন। পরিবারের অমতের কারণে স্ত্রী জুলেখার সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন আজহারউদ্দিন।

Advertisement

এই পরিস্থিতিতে স্বামীর সংসারে থাকার দাবি নিয়ে বেলডাঙা থেকে বাবা ও মায়ের সঙ্গে ছোট জাগুলিয়ায় চলে আসেন জুলেখা। রবিবার থেকে তাঁরা বামনগাছিতে স্বামীর আবাসনের পার্কিং জোনে ধর্নায় বসেছেন। সেখানে বসে তিনি স্বামীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়েছেন। এদিকে আজহারউদ্দিনের পরিবার ফ্ল্যাটের কোলাপসিবল গেটে তালা লাগিয়ে ভিতরেই বসে রয়েছে। একবারের জন্যও তাঁরা বাইরে বের হননি। প্রতিবেশী ও পরিচিতরা মীমাংসার প্রস্তাব দিলেও কোনও লাভ হয়নি।
জুলেখা বলেন, তিনমাস আগে রেজিস্ট্রি ম্যারেজ হয়েছে। ওর পরিবার এই বিয়ে মানতে চাইছে না। আজহারও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এখন শুনেছি, ওর নাকি আবার বিয়ে দেওয়ার তোড়জোড় করছে পরিবার। তাই, স্বামীর সংসার করার দাবি নিয়ে ম্যারেজ সার্টিফিকেট হাতে বসে রয়েছি এখানে। আজহারউদ্দিনের পরিবারের প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

সম্পর্কিত সংবাদ