নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলায় নাম জড়ানো বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে পদ থেকে সরিয়ে দিল জেলা প্রশাসন। জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ব্লকের কাজকর্ম সচল রাখতে প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব তুলে দেওয়া হল যুগ্ম বিডিও সৌরভকান্তি মণ্ডলের হাতে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনিই এই দায়িত্ব পালন করবেন বলে লিখিত নির্দেশিকায় জানিয়ে দিয়েছেন জেলাশাসক শমা পারভিন।
দত্তাবাদ নিউটাউনের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধার হয় গত ৩০ অক্টোবর। খুনের ঘটনায় নাম জড়ায় প্রশান্ত বর্মনের। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন বিডিওর একাধিক ‘ঘনিষ্ঠ’। এরপরই অফিসে আসা বন্ধ করে দেন প্রশান্ত। বারাসত আদালতে অন্তর্বর্তী আগাম জামিনের আবেদন করেন তিনি। গত ২৬ নভেম্বর আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করায় ফের অফিসমুখো হন প্রশান্ত। বিডিওর আগাম জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতেই ফের চাপে পড়ে যান প্রশান্ত।
গত ২২ ডিসেম্বর নিম্ন আদালতের নির্দেশ খারিজ করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রশান্ত বর্মনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। আগাম জামিন খারিজ হওয়ার খবর পৌঁছতেই মুহূর্তের মধ্যে অফিস ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি। তারপর থেকে বিডিও আর অফিসে আসেননি। হাইকোর্টের নির্দেশ মতো ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ না করে দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন প্রশান্ত। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা খেয়েছেন বিডিও। আগামী ২৩ জানুয়ারির মধ্যে প্রশান্ত বর্মনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। আর ওই নির্দেশের পরই প্রশান্ত বর্মনকে বিডিওর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এদিন বিডিওর কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত সৌরভকান্তি মণ্ডলের সঙ্গে দেখা করেন রাজগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়।