নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই পৌঁছবে দীঘার জগন্নাথদেবের প্রসাদ। নবান্নের নির্দেশ মোতাবেক প্রতিটি বাড়িতে প্রসাদ পৌঁছে দেবে বীরভূম জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যে সেই ব্যাপারে জেলা প্রশাসনে জোর তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবারই দীঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে প্রসাদ জেলায় এসে পৌঁছেছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রসাদ হিসেবে প্রায় ১০কিলোগ্রাম খোয়া এসেছে। ওই খোয়ার সংমিশ্রণেই এবার জেলার পুণ্যার্থীদের জন্য প্রসাদ তৈরি করা হবে। বরাত দেওয়া হবে স্থানীয় মিষ্টি ব্যবসায়ীদের। এনিয়ে ইতিমধ্যে জেলার প্রশাসনিক কর্তারা একাধিক বৈঠকও সেরেছেন।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বাড়ি বাড়ি প্রসাদ পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। জগন্নাথ মন্দির থেকে খোয়াও এসে গিয়েছে। এবার প্রসাদ তৈরি শুরু করা হবে। প্রত্যেক পুণ্যার্থীর বাড়ি জগন্নাথদেবের প্রসাদ পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ বাড়িতে জগন্নাথদেবের প্রসাদ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সেই মোতাবেক জেলার মিষ্টি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনাও শুরু হয়ে গিয়েছে। সবকিছু চূড়ান্ত হলেই মিষ্টি ব্যবসায়ীরা প্রসাদ তৈরির কাজ শুরু করবেন। জগন্নাথ মন্দির থেকে আসা খোয়ার সংমিশ্রণে তৈরি হবে প্যাঁড়া। সেইসঙ্গে মিষ্টি গজাও তৈরি করা হবে। পরবর্তীতে দুয়ারে রেশন মডেলের ধাঁচেই শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় জগন্নাথদেবের প্রসাদ পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, প্রসাদ বিতরণের লক্ষ্যে জেলায় মোট ছ’টি সেন্টার গড়ে তোলা হবে। সেখান থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে প্রসাদ পৌঁছে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে রেশন ডিলারদের হাত ধরে বাড়ি বাড়ি প্রসাদ পৌঁছে যাবে। প্রশাসনিক কর্তাদের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সাড়ে পাঁচ লক্ষ বাড়িতে প্রসাদ পৌঁছে দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হবে।
প্রসঙ্গত, ৩০এপ্রিল দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে পুণ্যার্থীদের জন্য মন্দিরের দরজা খুলেছে। সেখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, প্রত্যেক বাড়িতে প্রসাদ পাঠানো হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই ঘোষণা বাস্তবায়িত হতে চলেছে। প্রাথমিকভাবে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রসাদ হিসেবে প্রত্যেক বাড়িতে একটি করে প্যাঁড়া ও গজা পৌঁছে দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে স্মারক হিসেবে মন্দিরের একটি ছবিও পাঠানো হবে। জেলার রেশন ডিলারদের সহযোগিতায় এই কাজ সম্পন্ন হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আরও সুচারুভাবে প্রসাদ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্য কোনও উপায় অবলম্বন করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও জেলা প্রশাসনের অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে। • মন্দিরের বিগ্রহ। -নিজস্ব চিত্র