Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘রাজনীতি নয়, রাজধর্ম পালন করুন’, বিভাজন নিয়ে মোদিকে তোপ মমতার

জীবন-জীবিকার সংস্থানের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় দেড় কোটি মানুষ আসেন বাংলায়। তাঁদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কিন্তু, এরাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকরা ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে চূড়ান্তভাবে হেনস্তা হচ্ছেন।

‘রাজনীতি নয়, রাজধর্ম পালন করুন’, বিভাজন নিয়ে মোদিকে তোপ মমতার
  • ৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, সূতি: জীবন-জীবিকার সংস্থানের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় দেড় কোটি মানুষ আসেন বাংলায়। তাঁদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কিন্তু, এরাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকরা ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে চূড়ান্তভাবে হেনস্তা হচ্ছেন। বাংলা ভাষায় কথা বললেই আক্রান্ত হতে হচ্ছে তাঁদের। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমন ঘটনার মূলে রয়েছে গেরুয়া শিবিরের বিভেদের রাজনীতি। মঙ্গলবার এই অভিযোগ তুলে নাম না করে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘রাজ্যে রাজ্যে বিরোধ লাগালে রাজ্যপাটের ক্ষতি হয়। দেশের উন্নতির জন্য রাজ্যগুলির মধ্যে সুসম্পর্ক থাকা দরকার। ফলে রাজনীতি থেকে রাজ্যপাটকে আলাদা রাখতে হয়। পালন করতে হয় রাজধর্ম।’ এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের ফের একবার রাজ্যে ফিরে আসার কথা বলেন তিনি। সেজন্য কর্মশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে তাঁদের কাজ সুনিশ্চিত করতেই জেলাশাসকদের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিষয়ে তাঁরই নির্দেশে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে চিঠি লিখেছেন। জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। 

Advertisement

মঙ্গলবার ছিল মুখ্যমন্ত্রীর মুর্শিদাবাদ সফরের দ্বিতীয় দিন। সম্প্রতি সামশেরগঞ্জ এবং ধুলিয়ানে অশান্তির কারণে কিছু মানুষ দুর্দশায় পড়েছেন। সেই দুর্গত মানুষজনের সঙ্গে এদিন তিনি সামশেরগঞ্জ বিডিও অফিসে দেখা করেন। সেখান থেকে সূতিতে পৌঁছে ছাবঘাটি ক্ষুদিরাম দাস বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে এক পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কানায় কানায় ভর্তি মাঠে মানুষের কাছে শান্তির আবেদন করেন তিনি। 
কেন্দ্রের সংশোধিত ওয়াকফ আইনকে কেন্দ্র করে যে অশান্তি হয়েছে, সেই সম্পর্কে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মনে রাখবেন কেন্দ্র আইন করলে আমাদের হাতে কিছু থাকে না। কিন্তু ওয়াকফ আইন নিয়ে বাংলায় কোনও সমস্যা নেই। একথা বলার পরেও যদি কেউ আন্দোলন করতে চান তাহলে দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলন করুন। এটা নিয়ে এখানে কেউ গুড়িগুড়ি করলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না। একটাই কথা শুধু বলতে চাই, সকলের অধিকার রক্ষা করার গ্যারান্টি আমার।’
এদিনও তিনি মুর্শিদাবাদের হানাহানির জন্য দায়ী করেছেন বিজেপি এবং মৌলবাদী সংগঠনকে। আর সেই কারণেই সাধারণ মানুষকে বিজেপি এবং মৌলবাদীদের কথা শুনে ভাগাভাগি না-করার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর ভবিষ্যতে এমন অশান্তি এড়াতে তিনি বাংলার মা বোনেদের উপর বেশি করে ভরসা রাখছেন বলেই জানিয়েছেন প্রত্যয়ী মমতা। তিনি বলেন, ‘বাইরে থেকে লোক এসে অশান্তি লাগিয়ে পালিয়ে যায়। এদের প্ররোচনায় পা দিয়ে কেউ অশান্তি করবেন না। আপনারা অশান্তি করলে মনে রাখবেন দিদি আপনাদের সঙ্গে থাকবে না। আর আপনারা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করার থেকে ভালো আমার গলাটাই ধড় থেকে বাদ দিয়ে দিন!’ যে এলাকায় অশান্তি হয়েছিল, প্রশাসনিকভাবেও আগামী দিনে সেই এলাকাকে আরও শক্তিশালী করতে ফরাক্কা, সূতি এবং ধুলিয়ানকে নিয়ে পৃথক মহকুমা তৈরির সিদ্ধান্তও ঘোষণা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ