Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ বিপর্যয়

মাত্রাতিরিক্ত গরমে কোথাও সাত-আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও আবার রাতভর বিদ্যুৎহীন থাকছে। রাতের পর রাত ভুগতে হচ্ছে রামপুরহাট শহরের বাসিন্দাদের

রামপুরহাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ বিপর্যয়
  • ১৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মাত্রাতিরিক্ত গরমে কোথাও সাত-আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও আবার রাতভর বিদ্যুৎহীন থাকছে। রাতের পর রাত ভুগতে হচ্ছে রামপুরহাট শহরের বাসিন্দাদের। অভিযোগ, সাপ্লাই অফিসে ফোন করা হলেও রিং বেজে যাচ্ছে। কখনও আবার ইচ্ছাকৃতভাবে ফোন ‘আউট অব সার্ভিস’ করে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ। যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। যদিও দপ্তরের কর্মীদের দাবি, রাতে শহরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা দিতে রয়েছে একটিমাত্র মোবাইল ভ্যান। যা যথেষ্ট নয়। ফলে একইসঙ্গে একাধিক জায়গায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলে চটজলদি সারাতে সমস্যা হচ্ছে।

Advertisement

রামপুরহাট শহরে মোট ১৮টি ওয়ার্ড রয়েছে। প্রায় দেড় লক্ষের কাছাকাছি মানুষের বসবাস। দিন তো রয়েছেই রাতেও বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অপরদিকে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের জেরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শহরের জনজীবন। রাত বা দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষজন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। বাইরের কড়া রোদ আর ঘরে বিদ্যুৎ না থাকায় ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস উঠছে আমজনতার। কোথাও অতিরিক্ত লোডের কারণে ইবি কেবলে আগুন ধরে যাচ্ছে। আবার কোথাও ট্রান্সফর্মারের ফিউজ কেটে যাচ্ছে। কোথাও আবার বিদ্যুৎ থাকলেও লো-ভোল্টেজ। দিনেরবেলা সেই সমস্যার সমধান করছেন বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা। তবে রাতের দিকে ভুগতে হচ্ছে শহরবাসীকে। মানুষ যে নিশ্চিন্তে ঘুমাবে তার কোনও উপায় নেই। 
শহরের বাসিন্দা শক্তি দাস বলেন, শনিবার রাতে ১১টার সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। দু’ঘণ্টা পর বিদ‌্যুৎ এলেও তা আধঘণ্টা স্থায়ী ছিল। তারপর সকাল ৮টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হয়েছে। গরমে বাইরে পায়চারি করে সারারাত কাটাতে হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শিশু ও বৃদ্ধারা। অনেকেই বলেন, বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধিতে আমজনতার প্রাণ ওষ্ঠাগত। কিন্তু রাতে পরিষেবা সেভাবে মিলছে না। 
যদিও বিদ্যুৎদপ্তরের কর্মীদের সাফাই, কিছু করার নেই। রাতে এত বড় শহরে মাত্র একটি মোবাইল ভ্যান। তাতে চালক সহ কর্মীর সংখ্যা পাঁচ। ফলে একই সময়ে একাধিক জায়গায় সমস্যা হলে তা সারিয়ে তুলতে সময় লেগে যাচ্ছে। রাতে শহরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা দিতে অনন্ত আরও একটি মোবাইল ভ্যান প্রয়োজন। যদিও পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত বলেন, গরমের এই সময়ে ওভারলোড হয়ে যাওয়ায় এই সমস্যা হচ্ছে। দপ্তরকে দশ বছরের জন্য ভাবতে হবে। ওরা এবছর যা সমস্যা হচ্ছে সেটা নিয়ে ভাবছে। কিন্ত শহরে দিনদিন বসতি বাড়ছে। লোড অনুযায়ী কেবল লাগানো হচ্ছে না। পুরনো কাঠামোতেই পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে। রাতে আরও একটি মোবাইল ভ্যান বাড়ানোর জন্য বিদ্যুৎমন্ত্রীকে চিঠি দেব। সেই সঙ্গে বাসিন্দাদের কাছে আবেদন, লোড বাড়ালে দপ্তরে জানান। 
এদিকে গ্রা঩মগুলির অবস্থা আরও খারাপ। পঞ্চায়েত এলাকায় রাত্রিকালীন বৈদ্যুতিক সমস্যা হলে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। কারণ, গ্রামের ক্ষেত্রে রাত্রিকালীন কোনও মোবাইল ভ্যান নেই। বিদ্যুৎ বণ্টন নিগমের রামপুরহাট ডিভিশনাল ম্যানেজার নীলাদ্রি সরকার বলেন, শুধুমাত্র পুরসভা এলাকায় নাইট সার্ভিসের জন্য একটি মোবাইল ভ্যান রয়েছে। যা গ্রামাঞ্চলে নেই। এতে মানুষের সমস্যা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এটা দপ্তরের বিষয়। তবে ১১ হাজার লাইনে লোডের কোনও সমস্যা নেই। বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। স্থানীয়স্তরে সমস্যা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ