Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আজ শান্তিনিকেতনে পৌষমেলা শুরু, ঠাঁ‌ই নেই হোটেল ও রিসর্টে

‘ব্রহ্মডাঙা’ শান্তিনিকেতনে পৌষমেলাই সবচেয়ে বড় উৎসব। তাই পৌষমেলার অপেক্ষাতেই সারাবছর মুখিয়ে থাকে শান্তিনিকেতন।

আজ শান্তিনিকেতনে পৌষমেলা শুরু, ঠাঁ‌ই নেই হোটেল ও রিসর্টে
  • ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বোলপুর: ‘ব্রহ্মডাঙা’ শান্তিনিকেতনে পৌষমেলাই সবচেয়ে বড় উৎসব। তাই পৌষমেলার অপেক্ষাতেই সারাবছর মুখিয়ে থাকে শান্তিনিকেতন। এই পৌষমেলাই হয়ে ওঠে প্রাক্তনীদের পুনর্মিলন উত্সব, দেশ-বিদেশের মানুষের মহামিলনক্ষেত্র। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা। 

Advertisement

মেলা উপলক্ষ্যে হোটেলগুলিতে বুকিং প্রায় শেষ। বোলপুর-শান্তিনিকেতন জুড়ে ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই অবস্থা। সুযোগ বুঝে ভাড়াও বাড়িয়ে দিয়েছেন হোটেল মালিকরা। বোলপুর, শান্তিনিকেতন, শ্যামবাটি, প্রান্তিক, সোনাঝুরি থেকে গোয়ালাপাড়া পর্যন্ত আশেপাশের হোটেলগুলিতে ঘরভাড়া এক লাফে দ্বিগুণ, তিনগুণ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। হোটেল মালিকদের বক্তব্য, এখন ওই সব এলাকায় কোনও হোটেলেই ঘর খালি পাওয়া যাচ্ছে না। তবে, ভালো করে খুঁজলে মেলা প্রাঙ্গণ থেকে বেশ কিছুটা দূরের হোটেলগুলিতে এক-দু’টো ঘর পাওয়া গেলেও যেতে পারে। তবে, সেজন্য কিছুটা বেশি ভাড়া দিতে হবে। বহু হোটেলই আবার একদিনের জন্য রুম দিতে নারাজ। দাবি, অন্তত দু’দিনের জন্য হোটেল ভাড়া করতে হবে। সোমবার কলকাতা থেকে আসা পাঁচ বন্ধুর একটি দলের টোটোয় চড়ে হোটেল খুঁজতেই ভরা বাবদ খরচ হয় ৫০০ টাকা। অবশেষে সোনাঝুরির কাছে দু’দিনের জন্য একটি হোটেল মিললেও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কিছুটা মন খুঁতখুঁত ছিল প্রত্যেকেরই। তবে, নেই মামার থেকে কানা মামা ভালো, তাই চড়া দাম দিয়ে সেই হোটেলই ভাড়া করতে হল তাঁদের। 
এদিকে, পৌষমেলা চত্বরে স্টল তৈরির কাজ শেষ। সোমবার দিনভর এনিয়ে চূড়ান্ত ব্যস্ততা দেখা গিয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। দিনভর স্টল সাজাতে ব্যস্ত ছিলেন ব্যবসায়ীরা। ব্যস্ততা ছিল খাবারের দোকানগুলিতেও। রবিবার থেকেই থেকেই স্টলগুলিতে জল ও আলোর ব্যবস্থা করেছেন কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, মেলার কারণে যাতে পরিবেশ দূষণ না হয়, সেদিকেও নজর ছিল কর্তৃপক্ষের। মেলায় যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আবর্জনা এদিন পরিষ্কার করতে দেখা যায় সাফাই কর্মীদের। দূষণ রুখতে মেলার ছ’দিন সকাল-সন্ধে মেলা প্রাঙ্গণে জল ছড়ানো হবে। সোমবার সকাল থেকেই মাঠে জল দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। মেলায় প্লাস্টিক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মেলা কমিটির তরফে তৈরি হয়েছে অস্থায়ী শৌচালয়। বিশ্বভারতীর জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, প্রায় সমস্ত স্টলই বুক হয়ে গিয়েছে। সুষ্ঠভাবে পরিবেশবান্ধব মেলা করতে আমরা বদ্ধপরিকর। 
সোমবার থেকেই শান্তিনিকেতনে ভিড় করতে শুরু করেছেন পর্যটকরা। তাই শুক্রবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন জায়গায় যানজট হয়। তবে, ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। যানজট এড়াতে সক্রিয় মেলা কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন। মেলা চলাকালীন বিশেষ কিছু রাস্তায় যান চলাচল পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মেলা উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কয়েকটি রাস্তায় একমুখী যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারমধ্যে অন্যতম সোনাঝুরি হাটের রাস্তা। এছাড়াও, যানজট এড়াতে মেলা ঢোকার রাস্তায় একাধিক ‘ড্রপ গেট’ বসানো হয়েছে। প্রতিটি প্রবেশপথে নির্দিষ্ট পার্কিং জোন করা হয়েছে। পাশাপাশি, মেলার নিরাপত্তার জন্য তিনশোর বেশি অস্থায়ী সিসিটিভি ক্যামেরা, ১০টা ওয়াচ টাওয়ার, পাঁচটি ড্রোনের মাধ্যমে সর্বদা নজরদারি চালাবে পুলিশ। এছাড়াও প্রায় ৩৫টি পুলিশ সহায়তা ক্যাম্পের পাশাপাশি ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল রুমও থাকছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ