সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: পুজোর ঢাকে কাঠি পড়েছে। কুমোরপাড়াগুলিতে রাত জেগে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। উলুবেড়িয়াতেও এখন দিনরাত এক করে প্রতিমা তৈরি করে চলেছেন মৃৎশিল্পীরা। তবে তাঁদের মুখের হাসি উধাও। কারণ প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যবহৃত বাঁশ থেকে খড়, গঙ্গামাটি থেকে সুতলি দড়ি, পাটের চুল থেকে প্রতিমার সাজ– সব উপকরণের দামই অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে পুজো উদ্যোক্তারা বাজেট কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে প্রতিমা তৈরির খরচ বাড়লেও প্রতিমার দাম সেভাবে বৃদ্ধি করা যায়নি। ফলে লাভের অঙ্ক কমেছে মৃৎশিল্পীদের।
বীরশিবপুর স্টেশন থেকে বোয়ালিয়া যাওয়ার রাস্তায় নারকেলতলায় দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে প্রতিমা তৈরি করছেন শঙ্কর ধারা, রণজিৎ ধারারা। তাঁদের মতে, পুজোর অনেক আগে থেকেই প্রতিমা বায়না নেওয়া শুরু হয়। কিন্তু এবারে পুজোর অনুদান পাওয়া নিয়ে প্রথমে একটু ধোয়াশা থাকায় অনেক উদ্যোক্তাই বড় প্রতিমা অর্ডার দিতে সাহস পাননি। ফলে ছোট প্রতিমার অর্ডার বেশি হয়েছে। এদিকে, প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু পুজো উদ্যোক্তারা প্রতিমার দাম বাড়াতে চাইছেন না।
মৃৎশিল্পীরা জানান, আগে সুতলির দাম যেখানে কেজি প্রতি ১২০ টাকা ছিল, সেটা এবারে বেড়ে দাড়িয়েছে ২৫০ টাকা প্রতি কেজি। আগে এক ভক্সেল (মাটি মাপার একক) মাটি ২৫০ টাকায় পাওয়া গেলেও সেটা এখন কিনতে হচ্ছে ৫০০/৬০০ টাকায়। নদীর মাটি আগে অটো পিছু ১২০০ টাকায় কেনা গেলেও, এখন সেটা বেড়ে দাড়িয়েছে ২৫০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা। পাটের চুল আগে ৫০০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন সেটা ১৫০০ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে।
রণজিৎ ধারার বক্তব্য, প্রতিমা তৈরি করার খরচ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু পুজো উদ্যোক্তারা বাজেট বাড়াচ্ছেন না। ফলে আমাদের লাভের অঙ্ক কমছে। সারা বছর প্রতিমা তৈরি করেই সংসার চালাতে হয়। সেক্ষেত্রে সংসার চালাতে সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে শঙ্কর ধারার বক্তব্য, প্রতিমার দাম বাড়ালে অর্ডার অন্যত্র চলে যাওয়ার আশঙ্কা। তাই প্রতিমার দাম বাড়াতে পারছি না। ফলে নিজেদের লাভের অংশ কমিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হচ্ছে।