নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সামনেই আলু চাষের মরশুম। জমি তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রতিবছরই এই সময় সারের দাম নিয়ে কালোবাজারির অভিযোগ ওঠে। বেশি দাম দিয়েই অনেক দোকান মালিকের কাছ থেকে চাষিদের সার কিনতে হয়। সেই কারণে এবার প্রথম থেকেই সক্রিয় হচ্ছে কৃষিদপ্তর। আধিকারিকরা ঠান্ডা ঘর ছেড়ে সরাসরি চাষিদের কাছে পৌঁছে যাবেন। চাষিরা কার কাছ থেকে সার কিনেছেন, দাম কত নিয়েছে, এই সমস্ত তথ্য তাঁরা নথিভুক্ত করবেন। চাষিদের বক্তব্যও ভিডিও রেকর্ডিং করবেন। সেটা সরাসরি রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছে তাঁরা পাঠিয়ে দেবেন। কোথাও অনিয়ম হলে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সারের দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ডিলারের লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। শুধু জেলা নয়, কলকাতার বিশেষ দলও জেলায় ঘুরবে। তাঁরাও চাষিদের সঙ্গে কথা বলবেন।
এক আধিকারিক বলেন, সারা রাজ্যে কয়েক লক্ষ চাষির কাছে পৌঁছনোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেক সময় দাম বেশি দেওয়ার পরও চাষিরা অভিযোগ করেন না। বিভিন্ন রকম সমস্যা থাকে। সেই কারণে চাষিদের কাছে গিয়ে আধিকারিকরা সার কেনার রসিদ দেখবেন। এছাড়া, সঠিক দামে তাঁরা সার পাচ্ছেন কি না, সেটাও জানতে চাওয়া হবে। কোনও অভিযোগকারীর নাম সামনে আনা হবে না। এই সময় ১০.২৬.২৬ সারের চাহিদা বেশি থাকে। চাষিরা এই সার দিয়েই আলু চাষ করতে অভ্যস্ত। সেই কারণেই একশ্রেণির সার ব্যবসায়ী ফায়দা তোলার চেষ্টা করে।
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলাতে বেশি আলু চাষ হয়। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর, মেমারি, কালনা এলাকার বহু জমিতে বিভিন্ন ধরনের আলু চাষ হয়। চাষিদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা সারের সঙ্গে অনুখাদ্য নিতে বাধ্য করছেন। আলু জমিতে অনুখাদ্যের প্রয়োজন হয় না। সেটা ছাড়া ব্যবসায়ীরা সার বিক্রি করতে রাজি নয়। এই বিষয়টিও আধিকারিকদের দেখা উচিত। আলুচাষি শেখ ইউসুফ বলেন, প্রথম থেকে নজরদারি বাড়ানো হলে ব্যবসায়ীরা কালোবাজারি করার সাহস দেখাবে না। ১০.২৬.২৬ সারের জোগান বাড়ানো দরকার। অনেক সময় কেন্দ্রীয় সরকার জেলায় পর্যাপ্ত সার পাঠায় না। সেই সুযোগটাও ব্যবসায়ীরা কাজে লাগায়।
কৃষিদপ্তরের এক অধিকারিক বলেন, নজরদারি বাড়ানোর জন্য প্রতিটি জেলায় আলাদা আলাদা কমিটি গঠন করা হবে। তারা গোডাউনগুলিতেও অভিযান চালাবে। এমআরপির থেকে সারের দাম এক টাকাও বেশি নেওয়া যাবে না বলে ডিলারদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনুখাদ্য নিতে চাষিরা বাধ্য নন। কেউ নির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সার কেনার রসিদও চাষিদের দিতে বাধ্য ব্যবসায়ীরা। কোনও ব্যবসায়ী তা না দিলে চাষিরা কৃষিদপ্তরে অভিযোগ জানাতে পারেন।