নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: উত্তরপাড়া পুরসভার তৃণমূল কংগ্রেস চেয়ারম্যান দিলীপ যাদব সহ একগুচ্ছ নেতার নামে পোস্টার পড়ল। শনিবার সকালে শহরের কাঁঠালবাগান বাজার সহ একাধিক এলাকায় ছ’জনের নাম ও ছবি সহ পোস্টার দেখা যায়। সকাল সকাল ওই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পোস্টারটি ‘উত্তরপাড়ার জনগণ দ্বারা প্রচারিত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর পোস্টারের শিরোনামে আছে ‘বিচার চাই-হিসাব চাই’। ছ’জন নেতানেত্রীর নাম দু’টি ভাগে ভাগ করে লেখা হয়েছে কার কার সম্পত্তি ১০০ কোটির বেশি আর কার সামান্য কম। সম্পত্তির খতিয়ানও পেশ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেতানেত্রীদের বিরুদ্ধে ‘চোর চোর’ স্লোগান প্রায় মহামারী হয়ে উঠেছে। সেই নিরিখে এই পোস্টার অভিযোগ অভিনব। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ওই পোস্টারে কাউন্সিলার মৌসুমী বিশ্বাসের নাম আছে। সদ্য তিনি ডিমবৃষ্টির মুখে পড়েছিলেন। তাঁকে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগে এক ইউটিউবারকে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে। পোস্টার নিয়ে স্বভাবতই তীব্র ক্ষোভ শোনা গিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্বের গলায়। চেয়ারম্যান দিলীপ যাদব বলেন, যাঁদের অভিযোগের ওজন থাকে না তাঁদেরই নিজের নাম গোপন করতে হয়। পোস্টার না দিয়ে পুলিশ, ইডি, সিবিআইয়ের কাছে অভিযোগ করলেই পারেন। আমি যে কোনো তদন্তের মুখে দাঁড়াতে প্রস্তুত। আমার কোনো বেআইনি রোজগার নেই। ওই পোস্টারে নাম থাকা আর এক কাউন্সিলার সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, পোস্টার দিয়ে কুৎসা উত্তরপাড়ার মানুষ পছন্দ করেন না। যাঁদের অভিযোগ আছে তাঁরা আইনের দারস্থ হতে পারেন। কুৎসা করা অবাঞ্ছিত। মৌসুমীও দাবি করেছেন, তাঁর অবৈধ রোজগার নেই। এদিকে, এদিনই শ্রীরামপুরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কুৎসার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। শনিবার বিজেপি একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজনও করেছিল। শ্রীরামপুরের সাংসদের কুশপুতুলও দাহ করা হয়। সেখানে ছিলেন শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি সুমন ঘোষ। তিনি বলেন, কুৎসায় অভ্যস্ত সাংসদকে আর শ্রীরামপুরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। নাগরিকরা তেমনই চাইছেন।