Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এবার মেয়ের বিয়েবাড়িতে টাঙাতে হবে ‘এটা বাল্যবিবাহ নয়’ পোস্টার, নির্দেশ হুগলি জেলা প্রশাসনের

এবার বিয়েবাড়িতে টাঙাতে হবে পোস্টার। পোস্টারে লিখতে হবে ‘এটা বাল্য বিবাহ নয়’। মেয়ের বিয়েতে এই পোস্টার টাঙাতে হবে। সেজন্য পাত্রীপক্ষকে প্রশাসনের কাছে মুচলেকাও দিতে হবে।

এবার মেয়ের বিয়েবাড়িতে টাঙাতে হবে ‘এটা বাল্যবিবাহ নয়’ পোস্টার, নির্দেশ হুগলি জেলা প্রশাসনের
  • ২০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রামকুমার আচার্য, আরামবাগ: এবার বিয়েবাড়িতে টাঙাতে হবে পোস্টার। পোস্টারে লিখতে হবে ‘এটা বাল্য বিবাহ নয়’। মেয়ের বিয়েতে এই পোস্টার টাঙাতে হবে। সেজন্য পাত্রীপক্ষকে প্রশাসনের কাছে মুচলেকাও দিতে হবে। শুক্রবার হুগলি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্লকগুলিকে এমনই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, বাল্যবিবাহ রোধ সম্ভব শুধু সচেতনতাতেই। তাই জনমানসে নাবালিকা বিয়ে বন্ধে সচেতন করতেই বিয়েবাড়িতে এমন পোস্টার টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই পোস্টার চোখে পড়লে আমন্ত্রিতরাও সচেতন হবেন। অন্যদেরও সচেতন করবেন বলে আশা। এই প্রসঙ্গে হুগলির অতিরিক্ত জেলাশাসক(উন্নয়ন) অমিতেন্দু পাল বলেন, রাজ্যের ‘রূপশ্রী’ প্রকল্পে সরকারি অনুদান দেওয়া হয়। ফলে তাঁদের বিয়ের সময় অনুষ্ঠানে একটি পোস্টার টাঙানোর কথা বলা হয়েছে। এটি বাল্যবিবাহ নয়, এমন পোস্টার টাঙাতে হবে, যা সকলের নজরে পড়বে। তাতে সচেতন হবে জনগণ। নাবালিকা বিয়ে বন্ধ নিয়ে প্রশাসন সবসময় তৎপর। তাই এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগ মহকুমা সহ হুগলি জেলায় গত কয়েক মাসে একাধিক নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করেছে প্রশাসন। কিন্তু, নাবালিকা বিয়েতে রাশ টানা সম্ভব হয়নি। নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করে নিয়মিত তাদের বাড়িতে গিয়ে কাউন্সেলিং করারও নির্দেশ রয়েছে। যাতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের পর লুকিয়ে কোনওভাবে বিয়ে না হয় সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মহল তৎপর। প্রশাসনের আধিকারিকরা বলেন, নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে হলে তার শারীরিক, মানসিক ও সমাজের ক্ষতি। তাই নাবালিকা বিয়ে নির্মূল করাই লক্ষ্য। সেজন্য নানা ভাবে সচেতনতার পাঠ দেওয়া হচ্ছে। স্কুলে কন্যাশ্রী ক্লাব এব্যাপারে সচেতনতা চালায়। একইসঙ্গে পুলিস প্রশাসনের পক্ষ থেকেও স্কুল ও গ্রামে গিয়ে শিবির করা হচ্ছে। এবার রূপশ্রী প্রকল্পের উপভোক্তাদের মাধ্যমেও বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে পোস্টার দিয়ে সচেতন করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকার দুঃস্থ পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে আর্থিক অনুদান দেয়। রূপশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে ২৫হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরজন্য বিয়ের আগে থেকে প্রশাসনের কাছে আবেদন করতে হয়। পুরণ করতে হয় রূপশ্রী প্রকল্পের নির্দিষ্ট ফর্ম। জমা দিতে হয় বিয়ের আমন্ত্রণপত্র। প্রশাসন সেই আবেদন সরেজমিনে খতিয়ে দেখে। দেখা হয়, মেয়ের বয়স ১৮ বছর পেরিয়েছে কি না। তারপর সরকারি অনুদান সরাসরি তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর অনুমোদন দেওয়া হয়। 

Advertisement

হুগলি জেলা প্রশাসনের নির্দেশ, এবার রূপশ্রী প্রকল্পের ফর্ম পূরণের সঙ্গেই পাত্রীর পরিবারকে দিতে হবে মুচলেকা। মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে পোস্টার দিয়ে লিখতে হবে এটি বাল্যবিবাহ নয়। প্রশাসনের এই নয়া নির্দেশ কার্যকর করতে হুগলির সমস্ত বিডিও, মহকুমা শাসককে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, বিয়ে একটি সামাজিক অনুষ্ঠান। সেখানে আমন্ত্রিত হয়ে বহু আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা আসেন। সেই বিয়েবাড়িতে যাতে সকলের নজরে পড়ে এমন জায়গায় ওই পোস্টার টাঙানোর কথা পাত্রীপক্ষকে বলা হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ