সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: কর্পোরেট সংস্থার ধাঁচে টার্গেট বেঁধে দেওয়া হচ্ছে ডাক বিভাগের কর্মীদের। পার্সেল সরবরাহ করার জন্য বেসরকারি স্কুল, কলেজ, কোচিং সেন্টারগুলির সঙ্গে ডাক বিভাগ চুক্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন উপকরণ ডাক বিভাগের কর্মীরা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পৌঁছে দেবে। তারজন্য শিক্ষাবর্ষের শুরুতে বা ভর্তির সময় ডাক বিভাগের কর্মীরা স্কুল বা কোচিং সেন্টারগুলিতে ক্যাম্প করবে। স্কুল বা কলেজগুলি কী ধরনের সামগ্রী লেনদেন করে, সেই তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যতদ্রুত সম্ভব এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার জন্য বলা হয়েছে। কোচিং সেন্টারগুলি পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে বই নিয়ে আসে। দূরে শহর থেকে তা কিনতে গেলে পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া সময়ও নষ্ট হয়। সেসব সুবিধা ডাক বিভাগের কর্মীরা তাঁদের বোঝাবেন।
ডাক বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা মার্কেটিংয়ের জন্য লোক রাখে। সেই কর্মীরা উৎপাদিত সামগ্রী গ্রাহকদের বুঝিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করেন। এতদিন এসব কাজ ডাক বিভাগের কর্মীদের করতে হয়নি। এবার থেকে সেটাও করতে হবে। তবে এই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। সেগুলি অধিকাংশ মুখ থুবড়ে পড়েছে। ‘মাইস্ট্যাম্প’ প্রকল্প জনপ্রিয় করার জন্য নানা রকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সেটাও সেভাবে সাফল্য পায়নি। এছাড়া গঙ্গাজল বিক্রির জন্যও এক সময় জোর দেওয়া হয়েছিল। সেটা কিছুদিন চললেও সাফল্যের মুখ দেখেনি। পোস্ট অফিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সম্প্রতি পার্সেল সরবরাহ করার ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হচ্ছে। আগে ডাক বিভাগের বিভিন্ন নথি পোস্ট অফিস থেকে সরবরাহ করা হতো। এখন পার্সেল সরবরাহ করার জন্য প্রতিটি জেলায় আলাদাভাবে অফিস করা হচ্ছে। বাড়িতে কেউ না থাকলে অনেক সময় পার্সেল পোস্ট অফিসে ফিরে যেত। পরে তা ঘরের কাছে পোস্ট অফিস থেকে আনা যেত। এখন সেটা আনার জন্য দূরের অফিসে যেতে হবে। তাতে গ্রাহকদের অস্বস্তি বাড়বে। তবে ডাক বিভাগ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে বাড়তি সুবিধা দিয়ে ব্যবসা করতে চাইছে। বেসরকারি স্কুল বা কলেজগুলি নথি বিভিন্ন জায়গায় পাঠায়। বেসরকারি সংস্থাগুলির মাধ্যমে পার্সেল পাঠাতে তারা বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। স্কুল বা কোচিং সেন্টারে ডাক বিভাগের কর্মীরা আগে থেকে হাজির হলে তারা বেসরকারি সংস্থার উপর নির্ভরতা কমাবে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে কর্মীদের একাংশ ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, আগে নির্দিষ্ট কিছু কাজ তাদের দিয়ে করানো হতো। কিন্তু এখন আয় বাড়ানোর জন্য কর্পোরেট সংস্থার পথে হাঁটছে ডাক বিভাগ।