বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা:
বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা:
নগদ টাকার হিসেব মিলছে না ডাকবিভাগের! কারণ, ক্যাশ বাক্সে সেই টাকা নেই। তা রাখা আছে এটিএম মেশিনে। সেই মেশিন? বন্ধ। খুলতে গেলে পাসওয়ার্ড দরকার। আর তা দেবে না সংস্থা। চুক্তির গেরোয় সেই পাসওয়ার্ড চলে গিয়েছে রক্ষণাবেক্ষণকারী সেই কোম্পানির ‘সিন্দুকে’। তাহলে উপায়? নিজের টাকা ফিরে পেতে নিজেদেরই এটিএম ভাঙতে বাধ্য হল ডাকবিভাগ। একটি-দু’টি নয়, এরাজ্যের সবক’টি এটিএম ভেঙেই টাকাকড়ি বের করেছে তারা। এমনটাই জানা গিয়েছে ডাকবিভাগ সূত্রে। যদিও এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন দপ্তরের কর্তারা।
সাধারণ মানুষকে চটজলদি নগদ পরিষেবা দিতে বেশ কয়েক বছর আগে এটিএম পরিষেবা চালু করেছিল ডাকবিভাগ। বিভিন্ন পোস্ট অফিস লাগোয়া এলাকায় বসানো হয়েছিল মেশিন। সেগুলি পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ভার অবশ্য নিজেদের হাতে রাখেনি দপ্তর। তা দেওয়া হয় একটি বেসরকারি সংস্থাকে। এটিএম মেশিনের দেখভাল থেকে শুরু করে সেগুলিতে টাকা ভরার মতো সব কাজের দায়িত্বই ছিল ওই বেসরকারি সংস্থার কাঁধে। দপ্তরের কর্তাদের একাংশের কথায়, এটিএমগুলি চালু হলেও সেগুলির পরিষেবার দিকে সেভাবে নজর দেয়নি দপ্তর। ফলে ডাকবিভাগ দেশের বৃহত্তম ব্যাঙ্কিং সিস্টেম চালিয়ে গেলেও, সরকারি বা বেসরকারি ব্যাঙ্কের মতো এটিএমের সংখ্যা বাড়াতে চায়নি তারা। সাম্প্রতিককালে এই এটিএম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে সমস্যা হয় বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে। দাবিমতো পেমেন্ট না দেওয়ায় পরিষেবা বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। ডাকবিভাগও তাদের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ আনে। এই পরিস্থিতিতে এটিএমগুলির পরিষেবা বন্ধ করে দেয় সংশ্লিষ্ট সংস্থা। ফলে এটিএম খোলা থাকলেও, বহুদিন ধরেই তার থেকে পরিষেবা মিলছে না। সূত্রের খবর, আর্থিক সঙ্কটের কারণে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থাটির অস্তিত্বও এখন সঙ্কটের মুখে।
ডাকবিভাগের মাথাব্যথার কারণ হল, এই সব এটিএমই পাসওয়ার্ড প্রোটেক্টেড। অর্থাৎ, টাকা ভরা বা নোটের ক্যাসেট পর্যন্ত পৌঁছনো—সব ক্ষেত্রেই পাসওয়ার্ড দিতে হয়। মেশিন পরিচালনার ভার সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থার হাতে থাকায়, পাসওয়ার্ডও ছিল তাদেরই কাছে। নিরাপত্তার স্বার্থেই তারা ডাকবিভাগের কর্তাদের হাতে দেয়নি তারা। এই পরিস্থিতিতেই কেটে গিয়েছে মাসের পর মাস। কোনও এটিএমে ২০ হাজার, কোথাও ৫০ হাজার, কোথাও বা এক লক্ষ টাকা রয়ে গিয়েছে। যেহেতু এটিএম পরিষেবা বন্ধ, তাই সেই মেশিনগুলিতে ‘গচ্ছিত’ নগদের হিসেব মিলছে না। সংশ্লিষ্ট সংস্থাও পাসওয়ার্ড ‘শেয়ার’ করতে রাজি নয়। সেক্ষেত্রে এটিএম ভাঙা ছাড়া উপায় ছিল না দপ্তরের। সূত্রের খবর, পেশাদার কর্মীদের ডেকে দপ্তর নিজের তত্ত্বাবধানে এটিএমগুলি ভেঙে টাকা বের করেছে। এরপর বেশিরভাগ এটিএম কাউন্টারের ঝাঁপ বন্ধ করে দিয়েছে তারা।