নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডাকঘরে ভোগান্তি অব্যাহত। বুধবারও। গ্রাহকরা কাউন্টারে পৌঁছেও পরিষেবা পেলেন না। সবচেয়ে বড় কথা, পেনশন পাচ্ছেন না প্রবীণ নাগরিকরা। কিছু কিছু পোস্ট অফিস থেকে গ্রাহকদের জানানো হয়েছে, একেবারে সামনের সপ্তাহে আসুন। কারণ, ডাককর্মীরাও জানেন না, পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে। দেশজুড়ে গত শনিবার থেকে যেভাবে পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে, তাতে কোটি কোটি গ্রাহক চরম ক্ষুব্ধ। সেটা বুঝেই ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টায় নেমেছে ডাক বিভাগ। তারা গ্রাহক ভোগান্তি মেনে নিয়েছে এবং জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলেছে। অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে!
ডাকঘরগুলিতে ডিজিটাল পরিষেবার বহর আরও বাড়াতে এবং গ্রাহককে দ্রুত ও সুষ্ঠু পরিষেবার লক্ষ্যে ‘অ্যাডভান্সড পোস্টাল টেকনোলজি’ চালুর কথা জানায় ডাক বিভাগ। গত সোমবার ওই প্রযুক্তি চালু করার কথা ছিল। তার জন্য গত শনিবারই ডাকঘরের সব পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু সোমবার থেকে দ্রুত ও সুষ্ঠু দূরঅস্ত, ন্যূনতম পরিষেবাও পাননি গ্রাহকরা। সেভিংস অ্যাকাউন্টে লেনদেন থেকে শুরু করে পার্সেল বুকিং বা স্পিড পোস্টের মতো ডাক পরিষেবা—কিছুই মেলেনি। সেই পরিস্থিতি অব্যাহত ছিল মঙ্গলবারও। বুধবার গ্রাহকরা এসে একই অবস্থার মুখে পড়েছেন। উপরন্তু চরম সমস্যায় পড়েছেন পেনশন গ্রাহকরা। লক্ষ লক্ষ এই প্রবীণদের তালিকায় যেমন ডাকঘর ও বিএসএনএলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের একটা বড় অংশ রয়েছেন, তেমনই আছেন সাধারণ মানুষ। বুধবার মাসের ৬ তারিখ হয়ে গেলেও তাঁদের পেনশন অধরা। এদিনও তাঁদের অনেকেই পোস্ট অফিসের কাউন্টারে এসেছেন ও ফিরে গিয়েছেন।
পার্সেল বা চিঠিচাপাটির মতো ডাক পরিষেবা মুখ থুবড়ে পড়ায় গ্রাহকরা যেমন বিপাকে পড়েছেন, তেমনই আতান্তরে কর্মীরাও। যেহেতু অনলাইন ব্যবস্থা বন্ধ, তাই জমে থাকছে সেসব ডাক-পণ্য। যাঁরা বুকিং করতে এসেছেন, তাঁদের পুরনো বা ‘ম্যানুয়াল’ পদ্ধতিতে পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন কর্মীরা। থমকে গিয়েছে অনলাইন ট্র্যাকিং বা অভিযোগ জানানোর মতো পরিষেবা। এক কর্মীর কথায়, কেন্দ্র যেখানে ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র প্রচারে চারদিক মাত করে দিয়েছে, সেখানে যেটুকু ডিজিটাল কাজকর্ম পোস্ট অফিসগুলিতে হচ্ছিল, সেটাও লাটে উঠেছে। আরও ‘স্মার্ট’ ডিজিটাল পরিষেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমরা কাগজ-কলম নিয়ে বসেছি পণ্য বা চিঠি বুকিং করতে। এর জন্য গ্রাহকদের টিপ্পনি হজম করতে হচ্ছে। তাঁরা যেভাবে পরপর চারদিন পরিষেবা পেলেন না, তাতে তাঁদেরও ক্ষোভ জমাটা স্বাভাবিক।
পরিস্থিতি কঠিন জায়গায় যাচ্ছে দেখে সাফাই দিতে শুরু করেছে ডাক বিভাগ। তাদের বক্তব্য, একযোগে দেশের ১ লক্ষ ৬৪ হাজার পোস্ট অফিসে পুরনো প্রযুক্তি সরিয়ে নতুন প্রযুক্তি চালু করা হচ্ছে। প্রথম দিন, অর্থাৎ ৪ আগস্ট পরিষেবা মন্থর হয়ে গিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞ টিম কাজ শুরু করে। তাদের চেষ্টাতেই মঙ্গলবার সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি দপ্তরের। ‘অ্যাডভান্সড পোস্টাল টেকনোলজি’ পক্ষে প্রমাণ দিতে তারা আরও দাবি করেছে, মঙ্গলবার ২০ লক্ষ পণ্য বা জিনিস বুকিং করা হয়েছে এবং ২৫ লক্ষ পণ্য বা জিনিস ডেলিভারি করা হয়েছে। কেন্দ্রের এই যুক্তিতে অবশ্য না হেসে পারছেন না ডাককর্মীরা। কারণ, পরিস্থিতি ‘প্রায় স্বাভাবিক’ দূরঅস্ত, বুধবারও কিন্তু বাস্তব ছবিটা ছিল ঠিক তার উল্টো।