Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চারদিন বন্ধ ডাকঘরের পরিষেবা, টাকা তোলা বা জমা না হওয়ায় গ্রাহকরা সমস্যায়, ক্ষোভ

আধুনিকীকরণ করতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে ডাকঘরের পরিষেবা। টাকা তোলা বা জমা না হওয়ায় গ্রাহকরা সমস্যায় পড়েছেন।

চারদিন বন্ধ ডাকঘরের পরিষেবা, টাকা তোলা বা জমা না হওয়ায় গ্রাহকরা সমস্যায়, ক্ষোভ
  • ৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: আধুনিকীকরণ করতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে ডাকঘরের পরিষেবা। টাকা তোলা বা জমা না হওয়ায় গ্রাহকরা সমস্যায় পড়েছেন। ডাকঘরগুলিতে মূলত বয়স্ক গ্রাহকের সংখ্যা বেশি। পরিষেবা থমকে যাওয়ায় তাঁরা সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। গত শুক্রবার থেকে পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে গ্রাহকদের দাবি। কয়েকদিন আগে বর্ধমানে পোস্ট অফিসের সামনে গ্রাহকরা ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। ডাকঘরের এক আধিকারিক বলেন, পরিষেবা আরও উন্নত করার জন্য নতুন সফটওয়্যার বসানোর কাজ চলছে। সেই কারণেই সমস্যা হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যেই পরিষেবা সচল হয়ে যাবে। তবে সব কাজ থমকে রয়েছে, এমনটা নয়।

Advertisement

গ্রাহকরা বলেন, শুধু টাকা লেনদেন নয়, অন্যান্য কাজও ঠিকমতো হচ্ছে না। প্রতিদিনই গ্রাহকদের ডাকঘরে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে। বর্ধমানের বাসিন্দা পল্লব চট্টোপাধ্যায় বলেন, নতুন কোনও সফটওয়্যার চালু করতে হলে এক থেকে দু’দিন সমস্যা হতে পারে। কিন্তু, এভাবে টানা পরিষেবা ব্যাহত হলে গ্রাহকরা কোথায় যাবেন? অনেকে এমআইএসের টাকা তুলতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। কতদিন পরিষেবা বন্ধ থাকবে, সেটা নিয়ে নোটিস করা উচিত ছিল। তাহলে গ্রাহকদের এভাবে হয়রান হতে হয় না। আর এক গ্রাহক বলেন, পোস্ট অফিসে আধার কার্ড সংশোধনের কাজও ব্যাহত হচ্ছে। অনেকেই সকাল থেকে এসে লাইন দিচ্ছেন। পরে তাঁরা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।
পোস্ট অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, আধুনিকীকরণের জন্য একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পার্সেল সরবরাহ করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে অফিস করা হচ্ছে। সেখান থেকে পার্সেল সরবরাহ করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন স্কুল, কলেজের সঙ্গেও ডাকবিভাগ চুক্তি করতে চলেছে। শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন সামগ্রী তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সরবরাহ করবে। তবে অতীতের বেশকিছু প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। ‘মাই স্ট্যাম্প’ প্রকল্প চালু করার জন্য লাগাতার প্রচার চালানো হয়। তবে, সেটা বেশিদিন চলেনি। এছাড়া, গঙ্গাজল বিক্রির প্রকল্প প্রথমদিকে সফলতা পেলেও, পরে সেটাও জনপ্রিয়তা হারায়। গ্রাহকদের দাবি, ডাকবিভাগ বারবার সিদ্ধান্ত বদল করায় গ্রাহকরা সমস্যায় পড়ছেন। ছুটির দিনগুলিতে সফটওয়্যারের কাজ করা হলে গ্রাহকদের এভাবে বেকায়দায় পড়তে হতো না।
ডাকবিভাগের আর এক আধিকারিক বলেন, কর্মীর সংখ্যা কম রয়েছে। তারপর বারবার নতুন প্রকল্প আনা হচ্ছে। কর্মী সঙ্কটের জন্য অনেক প্রকল্প সফলতা পাচ্ছে না। গ্রাহকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, অন্যান্য জেলার পোস্ট অফিসগুলিতেও একই ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। গ্রাহকরা বলছেন, এসব কারণের জন্যই এখন অনেকে পোস্ট অফিসের উপর ভরসা করতে চায় না। টাকা জমা দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে বেশিরভাগ ক্রেতার পছন্দ হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বা বেসরকারি ব্যাঙ্ক। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ