সংবাদদাতা, রামপুরহাট: টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও শাট ডাউনের জেরে রামপুরহাট মহকুমার পোস্ট অফিসগুলিতে পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে গ্রাহকদের। অধিকাংশ পোস্ট অফিসে জেনারেটর থাকলেও সেগুলি খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তা নিয়ে হেলদোল নেই বলে কর্মীদের একাংশের অভিযোগ।
বীরভূম জেলায় ৫৯টি সাব পোস্ট অফিস এবং রামপুরহাট ও সিউড়িতে রয়েছে হেড পোস্ট অফিস। তার মধ্যে রামপুরহাট মহকুমার অধিকাংশ সাব পোস্ট অফিসে জেনারেটর বিকল হয়ে পড়ে আছে বলে অভিযোগ। বর্তমানে পোস্ট অফিসগুলিতে অনলাইনে কাজ হয়। ফলে বিদ্যুৎ না থাকলে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। কোনওদিন সকাল আটটা থেকে বেলা দুটো বা চারটে পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। তখন পরিষেবা দিতে পারছে না পোস্ট অফিসগুলি। কর্মীদের গ্রাহকদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে।
সামনেই কৌশিকী অমাবস্যা। ওই সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা দিতে এখন থেকেই মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। কোথাও লোডের সমস্যা থাকলে ট্রান্সফর্মার বদল করা হচ্ছে। এখানকার বাসিন্দাদের একটা বড় অংশ পোস্ট অফিসের গ্রাহক। পোস্ট অফিসে তাঁরা সমস্যায় পড়ছেন। চাষের এই সময়ে অনেকেই জমানো টাকা তুলে কৃষিকাজে ব্যয় করেন। তেমনি রেজিস্ট্রি বা স্পিড পোস্ট মাধ্যমে ভক্তদের মন্দিরের প্রসাদ ও ফুল পাঠান সেবাইতরা। সমস্যায় পড়েছেন তাঁরাও। সেবাইত গুরুশরণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে চরম সমস্যায় পড়েছি। পোস্ট অফিসে জেনারেটর থাকলেও তা বিকল। যেখানে সব কাজই অনলাইনে, সেখানে গ্রাহকরা যাতে পরিষেবা ঠিকমতো পায় তার সবরকম ব্যবস্থা থাকা উচিত।
গ্রাহকদের অভিযোগ, পোস্ট অফিসগুলির আধুনিকীকরণে, উন্নয়নে নানা পদক্ষেপের কথা কেন্দ্র সরকার ফলাও করে প্রচার করছে। কিন্তু এই কি আধুনিকীকরণ? বিদ্যুৎ চলে গেলেই কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
এই অফিসের পোস্ট মাস্টার জয়ন্তকুমার দাস বলেন, নিজস্ব জেনারেটর থাকলেও তা খারাপ। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বহুবার জানিয়েছি। লাভ হয়নি।
রামপুরহাটের হেড পোস্ট অফিসের পরই বড় পোস্ট অফিস বলতে নলহাটি। সেখানেও বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে ডুবে যায় গোটা অফিস। ফলে পরিষেবা লাটে ওঠে। এই অফিসের এক কর্মী বলেন, প্রতিদিন ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এদিন দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয়-সাতবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটেছে। কাজ করা যাচ্ছে না। গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। তিনি বলেন, সাত-আটমাস ধরে জেনারেটর খারাপ। বারবার লিখিতভাবে জানিয়েও সুরাহা হচ্ছে না। গরমে অফিসে বসে থাকা দায় হয়ে পড়ছে।
জেলা পোস্টাল সুপারিনটেন্ডেন্ট সৌম্য চট্টোপাধ্যায় বলেন, গ্রাহকদের পরিষেবা দিতে আমরা সবসময় তৎপর। কিন্তু সবেমাত্র আর্থিক বছর শুরু হয়েছে। এখনও সব খাতে বরাদ্দ সম্পূর্ণ হয়নি। ৫ আগস্ট আমাদের মাইগ্রেশন রয়েছে। তারপর ‘অফিস টু অফিস’ বসব এবং যত দ্রুত সম্ভব সমাধানের চেষ্টা করব। তবে নলহাটি অফিসের সমস্যার সমাধান খুব দ্রুত হয়ে যাবে।