সংবাদদাতা, বারুইপুর: মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ায় বারুইপুরের দুই স্কুলের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রের খবর, বারুইপুরের সীতাকুণ্ডু বিদ্যায়তন হাইস্কুল থেকে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল ১২৬ জন। সর্বোচ্চ নম্বর ৫২৭। অকৃতকার্য হয়েছে ২৭ জন। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র একজনই প্রথম ডিভিশন পেয়েছে। দ্বিতীয় ডিভিশন অর্থাৎ ৩১৫ নম্বরের উপর পেয়েছে মাত্র ৯ জন। বর্তমানে স্কুলটিতে পড়ুয়ার সংখ্যা ১,৪৫০ জন। এবারের মাধ্যমিকের ফল দেখে বর্তমান পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকদের একাংশ।
কেন এমন ফল? অভিভাবকদের বড় অংশের বক্তব্য, প্রধান শিক্ষিকার নজরদারির অভাব। অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারাও পড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেন না। তাই এই হাল। এই স্কুলের উপর মূলত রামনগর ১ ও ২, বেগমপুর, মদারাট পঞ্চায়েত এলাকার পড়ুয়ারা নির্ভরশীল। প্রধান শিক্ষিকা পাপিয়া হালদার বলেন, আর্থিক সমস্যার কারণে বহু পড়ুয়া স্কুলে আসছে না। তারা অন্যান্য কাজে লেগে যাচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষিকারা গুরুত্ব দিয়েই পড়ান। শুধু সীতাকুণ্ডু স্কুল নয়, মদারাট পঞ্চায়েত এলাকার আটঘড়া কালীকৃষ্ণ বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলের পরীক্ষার ফলও সন্তোষজনক নয়। সেখানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কমে গিয়েছে।
সূত্রের খবর, আটঘড়া কালীকৃষ্ণ বিদ্যাপীঠ হাইস্কুল থেকে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল ৩০ জন। সেখানে মাত্র ২০ জন পড়ুয়া পাশ করেছে। স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা শতাধিক। এই স্কুলে মূলত মদারাট, রামনগর ১ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকার ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করে। প্রধান শিক্ষক কাজল প্রধান বলেন, করোনার পর থেকেই স্কুলে ছাত্র সংখ্যা কমে গিয়েছে। নানা কারণে পড়ুয়ারা স্কুলমুখী হচ্ছে না। প্রায় দিনই অনুপস্থিত থাকে তাদের বড় অংশ। অভিভাবকদের বারংবার বলা হলেও তাঁরা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তাই এমন ফলাফল হয়েছে। যদিও অভিভাবকরা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকেই বলেন, শিক্ষকরা ক্লাসে পড়ুয়াদের কোনও কাজ দিয়ে নিজেরা মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। যে কারণে এত খারাপ ফল।