সংবাদদাতা, মানকর: পানাগড়ে বেপরোয়াভাবে পুকুর ভরাটের জেরে জলনিকাশি ব্যবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। ফলে অল্প বৃষ্টি হলেই জলমগ্ন হয়ে পড়ছে এলাকা। জল নামতে না পেরে ড্রেন উপচে রাস্তা ডুবে যাচ্ছে। সেই জল বাড়িতে ঢুকে পড়ছে। আর এই পুকুর বোজানোর কাজ করা হচ্ছে সম্পূর্ণ পরিকল্পনা মাফিক। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রথমে পুকুর পাড়ে আবর্জনা জমিয়ে রাখা হচ্ছে। সেই ডাঁই হয়ে থাকা আবর্জনা পুকুরে পড়ছে। একটু ভরাট হয়ে যাওয়ার পরই মাটি, পাথরের টুকরো দিয়ে পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের কাছে পুকুর শব্দটাই অপরিচিত হয়ে উঠবে বলে অনেকেই মনে করছেন।
এই প্রসঙ্গে উঠে আসছে কাঁকসা থানার প্রয়াগপুর মৌজার একটি পুকুর। এক একর পরিমাণের এই পুকুর রক্ষা করতে হস্তক্ষেপ করেছে খোদ পরিবেশ আদালত। জিটি রোডের পাশে পানাগড় বাজারে ওই জমির বিপুল দাম। অভিযোগ, সেখানেই পুকুরের একাংশ ভরাট করে বহুতল গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক রয়েছে। এনিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছে পানাগড় নাগরিক মঞ্চ। তাদের অভিযোগ, পুকুর ভরাট করে কোটি কোটি টাকার কারবার চলছে। প্রভাবশালীরা এর সঙ্গে যুক্ত। পুকুর ভরাটের প্রতিবাদ করায় তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করলেও প্রথমদিকে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এরপরই গ্রিন ট্রাইব্যুনালে মামলা করে বাসিন্দাদের একাংশ। তার পরিপ্রেক্ষিতেই জাতীয় পরিবেশ আদালত কঠোর পদক্ষেপ নেয়। প্রকাশবাবু বলেন, নির্বিচারে একের পর এক পুকুর ভরাট হয়ে যাচ্ছে। পুকুর ভরাটে রাশ না টানা গেলে আগামী দিনে এলাকার বাসিন্দাদের খেসারত দিতে হবে। বিরোধীদের অভিযোগ, পুকুর ভরাটের ফলে এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে।
কংগ্রেস নেতা পুরব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শাসক দলের প্রত্যক্ষ মদতে পুকুর ভরাটের কাজ চলে। আমরা অনেকবার প্রশাসনের নজরে নিয়ে এসেছি। পুকুর ভরাট হওয়ার ফলে এলাকার উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবু কারও হুঁশ নেই। বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন, পানাগড়ে পুকুর ভরাট নতুন ঘটনা নয়। বাম আমলের পর তৃণমূল জামানায় পুকুর ভরাটের কাজে গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানাগড় সবজি বাজার সংলগ্ন এলাকায় পুকুরের অংশ বুজিয়ে আবাসন তৈরি হয়েছে। এনিয়ে তখন আন্দোলনও হয়েছিল। কিন্তু, ফল হয়নি। আমরা এই বিষয়ে দফায় দফায় প্রশাসনের কাছে গিয়েছি। তাছাড়া পরিকল্পনাবিহীনভাবে নিকাশি নালা করা হয়েছে। তাতে তৃণমূল নেতার পকেটে টাকা ঢুকেছে আর বাসিন্দাদের বাড়িতে নোংরা জল ঢুকছে। অভিযোগ অস্বীকার করে কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের কৃষি সেচ ও সমবায় কর্মাধ্যক্ষ নবকুমার সামন্ত বলেন, আমরা পুকুর ভরাটের বিপক্ষে। পুকুর ভরাট দেখলেই প্রশাসন আইনি পদক্ষেপ নেয়। তবে এলাকার নিকাশি নালা মজে গিয়েছে। একশো দিনের কাজ বন্ধ থাকায় নিয়মিত সংস্কার করা যাচ্ছে না। তাছাড়া জাতীয় সড়ক নতুনভাবে হওয়ায় রাস্তা উঁচু এবং বসতি এলাকা নিচু হয়ে গিয়েছে। তাই এমন হচ্ছে।