


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: চলন্ত ট্রেনে অসুস্থ হয়ে পড়েন সত্তোরর্ধ্ব বৃদ্ধা। তিনজন যাত্রী কোনও রকমে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এলেও শেষরক্ষা হয়নি। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম আরতি কর্মকার (৭১)। তিন মহিলা যাত্রী প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষারত যাত্রীদের কাছে আবেদন করেন, বৃদ্ধাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে তাঁদের সঙ্গে হাত লাগাতে। কিন্তু কেউই এগিয়ে আসেনি। প্রায় ১০ মিনিট প্ল্যাটফর্মে পড়েছিলেন অসুস্থ বৃদ্ধা। শেষে তিন মহিলা একটি টোটো ডেকে বৃদ্ধাকে হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হল না। সোমবার দুপুরে এমনই অমানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকল হাবড়া। তিন মহিলা যাত্রীর আফসোস, সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিয়ে এলে হয়তো বৃদ্ধাকে বাঁচানো যেত।
দুপুরে অশোকনগর স্টেশন থেকে বনগাঁ লোকাল ট্রেনে উঠেন আরতি কর্মকার। তাঁর বাড়ি হাবড়ার মানিকতলায়। হাতে ছিল ব্যাগ। বৃদ্ধা দাঁড়িয়েই ছিলেন কম্পার্টমেন্টে। কিন্তু ট্রেন ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। অচৈতন্য হয়ে কম্পার্টমেন্টে পড়ে যান। বৃদ্ধার পাশেই ছিলেন বেশ কয়েকজন মহিলা যাত্রী। অসুস্থ বৃদ্ধার চোখেমুখে জলের ঝাপটা দেন তাঁরা। এর মধ্যে ট্রেন পৌঁছয় হাবড়া স্টেশনে। পূজা কুণ্ডু, সুপর্ণা খাতুন সহ আরও এক তরুণী ধরাধরি করে বৃদ্ধাকে প্ল্যাটফর্মে নামিয়ে আনেন। হাবড়া স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে তখন লোকারণ্য। বৃদ্ধাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভ্যান বা টোটো আনার জন্য আবেদন করেন পূজা ও সুপর্ণারা। কিন্তু কেউই কর্ণপাত করেননি। প্রায় ১০ মিনিটের বেশি সময় প্লাটফর্মে পড়েছিলেন অসুস্থ অবস্থায়। শুরু হয় খিঁচুনি। অন্য সহযাত্রী এগিয়ে না আসায় শেষে তিন মহিলা অসুস্থ বৃদ্ধাকে ধরাধরি করে টোটোয় তুলে নিয়ে আসেন হাবড়া হাসপাতালে। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ! হাসপাতালে দাঁড়িয়ে পূজা কুণ্ডু ও সুপর্ণা খাতুনরা বলেন, যাত্রীরা বৃদ্ধাকে দেখে এড়িয়ে গিয়েছেন। আমরা তিনজনে কোনওরকমে ওঁকে হাসপাতালে আনি। কিন্তু আফসোস একটাই, আগে আনলে হয়তো বাঁচানো যেত। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, হৃদরোগেই মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধার।