সংবাদদাতা, লালবাগ: ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো পতঙ্গবাহিত রোগ মোকাবিলা নিয়ে সচেতনতামূলক পোস্টার, ফেস্টুনের ছড়াছড়ি লালবাগ মহকুমা হাসপাতালে। কিন্তু, সেই হাসপাতাল চত্বরেই একটি পুকুর কচুরিপানায় ঢেকে গিয়েছে। বেশ বড় আয়তনের ওই পানাপুকুর মশার আঁতুড় ঘরে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যা নামতেই হাসপাতাল চত্বরে মশার উপদ্রবে মানুষকে অতিষ্ঠ হতে হয়। অথচ এনিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনও হেলদোল নেই। রোগী ও তাঁদের আত্মীয়রা এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার বিষয়ে পোস্টার, ফেস্টুন লাগিয়েই দায় সেরেছে। অথচ হাসপাতালে মশার আঁতুড় থাকলেও সেবিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।
লালবাগ মহকুমা হাসপাতালের সুপার সুদীপকান্তি সরকার বলেন, পুকুরটি সাফাইয়ের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল নেই। তাই সেটি সাফাইয়ের জন্য মুর্শিদাবাদ পুরসভার কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। তবে পুরসভার দাবি, ওই বিষয়ে লিখিতভাবে কিছু জানানো হয়নি। লিখিত আবেদন পেলে পুকুরটি সাফাই করে সৌন্দর্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মুর্শিদাবাদ শহরের আস্তাবল মাঠের কাছেই রয়েছে লালবাগ মহকুমা হাসপাতাল। লালগোলা, ভগবানগোলা, রানিতলা, মুর্শিদাবাদ, জিয়াগঞ্জ থানা, নবগ্রাম ও সাগরদিঘি থানা এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ এই হাসপাতালের উপর নির্ভর করেন। ফলে প্রতিদিনই এখানে হাজার হাজার মানুষের ভিড় হয়। হাসপাতাল চত্বরেই পানাপুকুর থাকায় মশার কামড়ে মানুষকে নাজেহাল হতে হয়। বিশেষত সন্ধ্যা নামতেই মশার কারণে হাসপাতাল চত্বরে দাঁড়ানোই দুষ্কর হয়ে পড়ে।
কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন রানিতলার নশিপুরের রাবেয়া বিবি। সোমবার লালবাগ হাসপাতালের আউটডোরে ডাক্তার দেখাতে আসেন। তিনি বলেন, প্রায় দেড়ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়েছিল। দিনের বেলাতেই মশার উৎপাতে দাঁড়ানো যাচ্ছে না।
নবগ্রাম থানার পাঁচগ্রাম থেকে এসেছিলেন মোতাহার শেখ। তিনি বলেন, আমার বাবা পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। দিনের বেলায় হাসপাতাল চত্বরে এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করা গেলেও সন্ধ্যায় পাঁচ মিনিটও দাঁড়ানো যায় না।
লালবাগ শহরের বাসিন্দা মনোজ বিশ্বাস বলেন, হাসপাতাল চত্বরে মশাবাহিত রোগের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ফেস্টুন, পোস্টার রয়েছে। অথচ সেই হাসপাতাল চত্বরেই মশার আঁতুড়! যা অবস্থা তাতে মানুষ এখানে এক রোগ সারাতে এসে অন্য রোগ নিয়ে ফিরবেন। এটা মেনে নেওয়া যায় না।
মুর্শিদাবাদ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, খুব উদ্বেগজনক বিষয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুকুরটি সাফাই করে সৌন্দর্যায়ন করলে রোগীর আত্মীয়রা সুন্দর পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে পারবেন। তাঁদের উপর মানসিক চাপও কিছুটা কমবে।