নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রসাদ রাজ্যের প্রত্যেক বাড়িতে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য। মন্দিরের ছবি সহ প্রসাদের একটি প্যাকেট পৌঁছে যাবে প্রত্যেক বাড়িতে। প্রসাদ হিসেবে থাকবে একটি করে প্যাঁড়া এবং গজা। তবে রথযাত্রার আগে এই প্রসাদ বিতরণ নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি। বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, প্রসাদের নামে স্থানীয় মিষ্টির দোকান থেকে প্যাঁড়া, গজা কিনে বিতরণ করা হবে। দীঘার মন্দির থেকে কোনও প্রসাদ আসছে না। তাই একে প্রসাদ বলতেই রাজি নয় গেরুয়া শিবির। সেই সঙ্গে এভাবে প্রসাদের প্যাকেট পাঠিয়ে এক শ্রেণির মানুষের ধর্মীয় আবেগে আঘাত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের। বিজেপির এই ‘কুৎসার রাজনীতি’র কড়া জবাব দিয়েছে রাজ্য সরকার। শুক্রবার রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন বলেন, ‘সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। বাংলার মানুষ যে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষেই রায় দেবে, এটা ওদের ভালো করেই জানা আছে।
সেই কারণে হতাশায় ভুগছেন ওঁরা। তাই মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে রাজতৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টায় আছে।’
এদিন দপ্তরের প্রধান সচিব শান্তনু বসুকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য সরকারের প্রসাদ বিতরণ কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান ইন্দ্রনীলবাবু। বিজেপির কথায় বিভ্রান্ত না হওয়ার আর্জি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রাজ্যের প্রত্যেক বাড়িতেই পৌঁছবে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রসাদ। শুধুমাত্র এক শ্রেণির রেশন ডিলারকে দিয়ে প্রসাদ বিতরণ করানোর পরিকল্পনার রয়েছে রাজ্যের— এই কথা সর্বৈব মিথ্যা।’ এ ব্যাপারে রাজ্যের পরিকল্পনা খোলসা করে তিনি বলেন, ‘সোমবার থেকে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে খোয়া ক্ষীর পাঠানো শুরু হবে। জগন্নাথদেবের শ্রীচরণে সেই ক্ষীর ঠেকিয়ে মহাপ্রসাদ করে পাঠিয়ে দেওয়া হবে জেলায় জেলায়। তবে দীঘা থেকে তৈরি করা প্যাঁড়া-গজা দূরের জেলায় পাঠানো যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ। সেক্ষেত্রে মিষ্টি নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ও থাকে। তাই গুণমানের কথা মাথায় রেখেই এলাকাভিত্তিক মিষ্টি প্রস্তুতকারকদের কাজে লাগানো হবে। তাঁরা জেলায় পাঠানো প্রসাদি অন্যান্য সামগ্রীর সঙ্গে মিশিয়েই প্যাঁড়া-গজা প্রস্তুত করবেন।’
মূলত, ‘দুয়ারে রেশন’ ব্যবস্থার মাধ্যমেই এই প্রসাদ বিলি করা হবে। প্রসাদ বণ্টনের জন্য রেশন ডিলারদের প্যাকেট পিছু ১ টাকা করে দেওয়া হবে বলে ঠিক হয়েছে। অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলারস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু বলেন, ‘প্রসাদ বণ্টন নিয়ে একটি কার্যপ্রণালী (এসওপি) জারি হবে। সেটার জন্যই আমরা অপেক্ষা করছি।’