নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: একে মাথার উপর পাহাড় প্রমাণ কাজের চাপ। নির্বাচন কমিশন বেঁধে দিয়েছে সময়। তার উপর আবার ফর্মের তথ্য সঠিক কি না, তা যাচাই করতে গিয়ে মিলছে রাজনৈতিক দলগুলির হুমকি, চোখ রাঙানি। সাঁড়াশি চাপে প্রাণ ওষ্ঠাগত বুথ লেভেল অফিসারদের। সম্প্রতি নদীয়া জেলার একাধিক জায়গার বিএলওরা এমনই অভিযোগ করেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক দলগুলির চাপে তথ্য যাচাই করে ফর্ম জমা নিয়ে নিলে পরে কোপ পড়বে তাঁদের উপর। তখন দায় কে নেবে?
অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে আসে ব্লকে ব্লকে বিএলওদের বিক্ষোভের সময়ে। সেই সব বিক্ষোভে বিএলওদের একাংশের দাবি, নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁদের। এই অভিযোগে তাঁরা কাঠগড়ায় তুলেছেন সমস্ত রাজনৈতিক দলকেই। ক্ষুব্ধ বিএলওদের দাবি, বিভিন্ন জায়গায় এসআইআর সহায়তা ক্যাম্প করছে রাজনৈতিক দলগুলি। নাগরিকদের ফর্ম ভর্তি করে দেওয়া হচ্ছে সেই ক্যাম্প থেকেই। তারপর সেই ফর্ম তাঁদের হাতে আসার পর তথ্য যাচাই করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কখনও হুমকি, তো কখনও চোখ রাঙানির মধ্যে তাদের স্পষ্ট বলে দেওয়া হচ্ছে, ফর্ম যেভাবে ফিল আপ করা হয়েছে সেভাবেই নিতে হবে। পারিপার্শ্বিক তথ্য যাচাই করা যাবে না। কমবেশি প্রায় প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধেই এই অভিযোগ তুলেছেন বিএলওদের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন, যদি ফর্মে ভুল তথ্য দেওয়া থাকে তাহলে পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের কোপে পড়তে হবে তাঁদের। তখন তাদের দায় কে নেবে? যেমন সুস্মিতা মজুমদার নামে এক বিএলও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলির ফর্ম ফিল আপ করে দিয়ে দিচ্ছে। অনেক সময়ে আমাদের মনে হচ্ছে, তাতে সঠিক তথ্য নেই। কিন্তু আমাদের তা দেখতে দেওয়া হচ্ছে না। বলা হচ্ছে এটা গাইডলাইনে নেই। কিন্তু পরবর্তীকালে যদি সমস্যা হয়, তখন তো আমাদেরই শাস্তির মুখে পড়তে হবে। সিপিএম, তৃণমূল, বিজেপি সহ কমবেশি সব রাজনৈতিক দলই এভাবে জোর করে আমাদের ফর্ম দিয়ে দিচ্ছে। আমাদের স্পষ্ট বলছে, যা দিচ্ছি তাই নিতে হবে। একই দাবি নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আর এক বিএলও বলেন, সমস্ত রাজনৈতিক দল একই কাজ করছে। প্রত্যেকের নিজের নিজের মতো ফর্ম ভর্তি করে আমাদের দিয়ে দিচ্ছে। সেখানে তথ্য আদেও ঠিক না ভুল আমরা জানতেই পারছি না।
যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে সিপিএম, তৃণমূল, বিজেপি তিনদলই। তৃণমূলের রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, বিএলওরা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কাজ করছেন। তৃণমূলের বিএলএরা তাঁদের সহযোগিতা করছেন। হুমকির প্রশ্নই নেই। যে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি সব জায়গায় বিএলএ দিতে পারেনি, এগুলো তাদের কাজ হতে পারে। কারণ প্রবাদেই রয়েছে, অল্প জলের মাছ বেশি ছটফট করে। বিজেপি নদীয়া দক্ষিণ জেলার সহ সভাপতি সোমনাথ কর বলেন, এই ধরনের কাজ তৃণমূলের বিএলএরা করছেন। আমাদের দলের বুথ লেভেল এজেন্টদের আমরা প্রশিক্ষণ দিয়েছি, তারা কখনওই এই ধরনের কাজ করবেন না। তবুও কোনও বিএলও যদি এই ধরনের অভিযোগ আনেন, তা ঠিক বলে মনে হয় না। সিপিএমের রানাঘাট ১ এরিয়া কমিটির সম্পাদক কমল ঘোষ বলেন, আমাদের বিএলএরা বিএলওদের পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী, বিএলওরা তথ্য চাইতে পারেন না। তবে তথ্য জেনে নিতে পারেন।
বিষয়টি নিয়ে নদীয়ার জেলাশাসক তথা নির্বাচনী আধিকারিক অনিশ দাশগুপ্ত বলেন, বিএলএরা ৫০টি ফর্ম সংগ্রহ করে বিএলওদের দিতে পারে। এটাই গাইডলাইন আছে। শুধু তাঁদের একটা ডিক্লেয়ারেশন লিখে দিতে হয়।