নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: সম্প্রতি একাধিক পুরসভার চেয়ারম্যান বদল হয়েছে। দলীয় নির্দেশে পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ফালাকাটা পুরসভার চেয়ারম্যান প্রদীপকুমার মুহুরি ও ভাইস চেয়ারম্যান জয়ন্ত অধিকারী। এমন আবহে জল্পনা শুরু হয়েছে কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান বদল নিয়ে। এদিকে, দলের নির্দেশেই বুধবার তুফানগঞ্জ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তনু সেন। তবে হলদিবাড়ি পুরসভায় এনিয়ে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। ওই পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদ ছাড়তে নারাজ। জেলারই মাথাভাঙা পুরসভার চেয়ারম্যানকে পদত্যাগ করতে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করেছেন। যা নিয়ে যথেষ্ট জলঘোলা শুরু হয়েছে।
এদিন তনু সেন তুফানগঞ্জ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পদে থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। সেই ইস্তফাপত্র তুলে দেন চেয়ারপার্সন কৃষ্ণা ঈশোরের হাতে। এখানে নতুন ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাচ্ছেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অম্লান বর্মা। তনু সেন দলের শহর যুব সভাপতি ছিলেন। সম্প্রতি সেই পদ থেকেও তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর এই অপসারণ নিয়ে শহরের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল তৈরি হয়েছে। যদিও তনু বলেন, দলের নির্দেশেই চেয়ারপার্সনের হাতে ইস্তফাপত্র তুলে দিয়েছি। তবে কাজ করতে গেলে কোনও চেয়ারের প্রয়োজন হয় না। চেয়ারপার্সন বলেন, দলীয় নির্দেশেই উনি ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়েছে। এর বাইরে আর কিছু বলার নেই।
অন্যদিকে, দল নির্দেশ দিলেও হলদিবাড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের পদ ছাড়তে নারাজ শংকরকুমার দাস ও অমিতাভ বিশ্বাস। যা নিয়ে চলছে চাপানউতোর। সাত দিনের মধ্যে তাঁদের পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন দলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক। মঙ্গলবার রাতেই এ খবর পেয়ে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলার বৈঠকে বসেন। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, যাঁরা আছেন তাঁরাই পুরসভা চালাবেন। বিষয়টি জানতে পেয়ে বুধবারই পুরসভার সিংহভাগ কাউন্সিলারকে নিয়ে বৈঠকে বসেন মেখলিগঞ্জের বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারী। কিন্তু সেই বৈঠকেও মেলেনি সমাধান সূত্র। আজ, বৃহস্পতিবার বিধায়ক দলের জেলা সভাপতির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।
ভাইস চেয়ারম্যান তথা দলের হলদিবাড়ি শহর সভাপতি অমিতাভ বিশ্বাস বলেন, বৃহস্পতিবার জেলা সভাপতির সঙ্গে বৈঠকে আছে। বিধানসভা ভোট দোরগোড়ায়। ভোটের আগে রদবদল করলে প্রভাব পড়বে। বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে সেই অবস্থাই থাকুক। যেহেতু পদত্যাগ করতে বলেছেন জেলা সভাপতি তাই তাঁর সঙ্গে আমরা বসতে চাই।
এদিকে, সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে মাথাভাঙা পুরসভার চেয়ারম্যানকেও। ইতিমধ্যে তৃণমূলের জেলা সভাপতি চেয়ারম্যানকে পদত্যাগ করতে বলেছেন। যা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে শহরে। দলেরই একাংশের দাবি, যেখানে অঞ্চল সভাপতি ঘোষণা করা হয় রাজ্যের তরফে সেখানে পুর চেয়ারম্যানকে সরে যেতে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো কতটা যুক্তিযুক্ত। যদিও জেলা সভাপতির মেসেজ পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও এনিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি মাথাভাঙা পুরসভার চেয়ারম্যান লক্ষপতি প্রামাণিক। তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি বলেন, যেভাবে দলের নির্দেশ আসবে সেভাবেই কাজ করা হবে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনিক দায়িত্বের পরিবর্তে সাংগঠনিক কাজে কিছু নেতাকে দল বেশি করে ব্যবহার করতে চাইছে। এদিন তুফানগঞ্জ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তনু সেন ইস্তফা দিয়েছেন।