নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ভাড়াবাড়ি থেকে মহিলা পুলিশকর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য। মৃতের নাম মামনি রায় (৩৫)। জলপাইগুড়ি সদর ট্রাফিক পুলিশে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। গত ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে চাইল্ড কেয়ার লিভে ছিলেন। এরই মধ্যে তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য দানা বেঁধেছে। এটি নিছক আত্মহত্যা না কি, এর পিছনে অন্য কিছু রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
অভিযোগ, অন্য এক মহিলার সঙ্গে স্বামীর সম্পর্ক রয়েছে, এটা জানতে পারার পরই ওই মহিলা পুলিশকর্মীর পরিবারে অশান্তি শুরু হয়। স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় ওই কনস্টেবলকে মারধর করা হত। রবিবার বিকেলেও এনিয়ে তাঁদের মধ্যে অশান্তি হয়। এমনকী ওই মহিলা পুলিশকর্মীর গায়ে হাত তোলেন তাঁর স্বামী। স্ত্রীকে চড় মারার অভিযোগ স্বীকার করে নিলেও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মৃত ওই মহিলা পুলিশকর্মীর স্বামী। তাঁর দাবি, এর ওর মুখে শুনে স্ত্রী তাঁকে অহেতুক সন্দেহ করত। ঘটনার উপযুক্ত তদন্তের দাবি তুলেছেন মৃত কনস্টেবলের বাপেরবাড়ির লোকজন। এনিয়ে তাঁরা থানায় লিখিত অভিযোগ জানাবেন বলেও জানিয়েছেন। মৃত পুলিশকর্মীর স্বামী একটি সরকারি কলেজের চুক্তিভিত্তিক ইনসট্রাক্টর। দুই ছেলেকে নিয়ে জলপাইগুড়ি শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর রায়কত পাড়ায় ভাড়া থাকতেন ওই মহিলা পুলিশকর্মী। তাঁর স্বামী কোচবিহারের ঘোকসাডাঙায় থাকেন। প্রতি সপ্তাহে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত বলেন, ট্রাফিক পুলিশে কর্মরত এক কনস্টেবলের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে সোমবার। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এখনো পর্যন্ত মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। এদিন জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালের মর্গ চত্বরে দাঁড়িয়ে মৃতের দিদি অণিমা রায় বলেন, স্বামীর অন্য এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। এনিয়ে বোন প্রতিবাদ করায় অশান্তি শুরু হয়। বোনকে মারধর পর্যন্ত করত ওর স্বামী। আমরা ঘটনার উপযুক্ত তদন্ত চাই।