সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটাল মহকুমার কোনও দোকানে চিনা মাঞ্জার সুতো দেখতে পেলেই কঠোর পদক্ষেপ করবে পুলিশ। সেই সঙ্গে চীনা মাঞ্জার ক্রেতা ও ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি এই মহকুমায় চিনা মাঞ্জার সুতোয় গলা কেটে একজনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই এনিয়ে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ-প্রশাসন বলে জানা গিয়েছে। যদিও ঘাটাল মহকুমায় চিনা মাঞ্জায় মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করছেন এসডিপিও দুর্লভ সরকার। তিনি বলেন, ঘুড়ি ওড়ানো হচ্ছিল ঘাটাল মহকুমার সীমানা সংলগ্ন গোঘাট থানা এলাকায়। ঘুড়িটি উড়ছিল ঘাটাল মহকুমায়। যিনি মারা গিয়েছেন তিনিও হুগলির বাসিন্দা। তবুও পুলিশ চিনা মাঞ্জার ব্যবহার কোনওভাবেই মানবে না। তাই মহকুমাজুড়ে চিনা মাঞ্জার ব্যবহার রুখতে অভিযান চালানো হবে বলে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জানান।
গত ৮ নভেম্বর হুগলির মুক্তারামপুরের বাসিন্দা চন্দন দলুই (৩৫) ঘাটাল থানার রাধানগরে আসেন। ওইদিন বিকেলে রাধানগর থেকে এক মহিলাসহ মোট দু’জন সওয়ারিকে বাইকে চাপিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন চন্দনবাবু। সেই সময় ঘাটাল থানার সীমান্ত তথা কোমরা-বালিডাঙা পেরোনোর সময় চিনা মাঞ্জা চন্দনবাবুর গলায় লাগে। গলার শ্বাসনালি অনেকটা কেটে যায় চিনা মাঞ্জার ধারে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। নজরদারিও চলবে।
হুগলি জেলা থেকে ঘুড়ি ওড়ানো হলেও দুর্ঘটনাটি ঘাটাল থানা এলাকায় হয়েছিল। কিন্তু কোমরা-বালিডাঙার বাসিন্দারা বলেন, শুধু হুগলি জেলাই নয়, শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটাল থানা এলাকাতেও বহু যুবক চিনা মাঞ্জার সুতো ব্যবহার করে ঘুড়ি ওড়াচ্ছে। তাই ঘাটাল মহকুমার বাসিন্দারাও চাইছেন যে কোনও মূল্যে এই মহকুমায় চিনা মাঞ্জার সুতো ব্যবহার করে ঘুড়ি ওড়ানো বন্ধ করতে।
ঘুড়ি ওড়ানোর সময় অনেকে সাধারণ সুতো ব্যবহার না করে চিনা মাঞ্জার সুতো ব্যবহার করেন। এই সুতোয় কাচের গুঁড়ো ও ধাতব গুঁড়ো মেশানো থাকে। যাতে সুতোকে তীক্ষ্ণ ও শক্ত করে। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বীর ঘুড়ির সুতো কাটতে সুবিধা হয় ঠিকই, কিন্তু তার ভয়াবহ ফল ভোগ করতে হয় সাধারণ মানুষকে।
ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি বিকাশ কর বলেন, ঘুড়ি ওড়ানো আনন্দের। কিন্তু সেই আনন্দ এখন চিনা মাঞ্জার সুতোয় ভয়াবহ বিপদের কারণ হয়ে উঠছে।
বিদ্যুৎ দপ্তরের এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ওই মাঞ্জার সুতো বিদ্যুতের ফ্লেক্সিবল এবং কেবল তারের কভার কেটে আগুন লাগিয়ে দিতে পারে। চন্দনবাবুর মৃত্যুর মতো রাস্তায় চলাচলের সময় বাইক আরোহীর গলায় বা মুখে জড়িয়ে কেড়ে নিতে পারে প্রাণ। শুধু মানুষ নয়, আকাশে উড়ন্ত পাখিরাও এই সুতোর ফাঁদে পড়ে বেঘোরে প্রাণ হারায়। সেজন্যই মহকুমা পুলিশ প্রশাসন ঘাটাল মহকুমা থেকে চিনা মাঞ্জার সুতো বিক্রি ও তার ব্যবহার নিয়ে কড়া মনোভাব দেখাচ্ছে। গোপন সূত্রে পুলিশ খোঁজ রাখছে কোনও দোকানে এটি বিক্রি হচ্ছে কি না।