Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ষাঁড় চোরদের গাড়ির ধাক্কা উল্টে গেল পুলিস ভ্যান

ষাঁড় চুরি করতে আসা দুষ্কৃতীদের বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারালেন পুলিসের গাড়ির চালক

ষাঁড় চোরদের গাড়ির ধাক্কা উল্টে গেল পুলিস ভ্যান
  • ১৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দীগ্রাম: ষাঁড় চুরি করতে আসা দুষ্কৃতীদের বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারালেন পুলিসের গাড়ির চালক। জখম হলেন তিন পুলিস অফিসার ও কর্মী। তাঁদের মধ্যে সুশান্ত মিত্র নামে এক এএসআই নন্দীগ্রাম সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মৃতের নাম সহদেব প্রধান (২৫)। রেয়াপাড়া ফাঁড়ি লাগোয়া তাঁর বাড়ি। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় ওই ঘটনার পর গাড়ি সহ বেপাত্তা দুষ্কৃতীরা। সকাল থেকেই এনিয়ে প্রবল উত্তেজনা ছড়ায় রেয়াপাড়ায়। গ্রামীণ হাসপাতালের সামনে রাস্তায় ইলেক্ট্রিক পোস্ট ফেলে অবরোধ করা হয়। রেয়াপাড়া গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ ময়নাতদন্তে নিয়ে যেতে বাধা দেওয়া হয়। দীর্ঘক্ষণ হাসপাতালে দেহ পড়েছিল। দুপুর নাগাদ দেহ নিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিসের ব্যাপক ঝামেলা বেধে যায়। তাতে বিজেপি নেতা-কর্মীরাও যোগ দেন। রেয়াপাড়ায় চণ্ডীপুর-নন্দীগ্রাম সড়কেও কিছুক্ষণ অবরোধ হয়। দফায় দফায় উত্তেজনার পর বেলা পৌনে ২টো নাগাদ নিহত পুলিসের গাড়ি চালকের দেহ রেয়াপাড়া গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে নন্দীগ্রাম থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

Advertisement

বুধবার গভীর রাতে দুষ্কৃতীদের একটি দল পণ্যবাহী গাড়ি নিয়ে রেয়াপাড়া শিবমন্দির সংলগ্ন মাঠে হাজির হয়। ওই মাঠে বেশকিছু ষাঁড় ঘোরাঘুরি করে। দুষ্কৃতীরা ষাঁড় চুরি করতে ওই মাঠে পৌঁছে যায়। মাঠের বিভিন্ন জায়গায় শশা ও গাজর পড়ে থাকতে দেখা যায়। সম্ভবত, ষাঁড়কে খাবারের টোপ দিয়ে গাড়িতে তোলার চেষ্টা হয়। খবর পেয়ে রেয়াপাড়া ফাঁড়ির পুলিস নাইট পেট্রলিংয়ে থাকা গাড়ির অফিসার সুশান্ত মিত্রকে মেসেজ পাঠায়। পুলিসের ওই ভ্যান নন্দীগ্রাম-চণ্ডীপুর রাজ্য সড়ক থেকে দ্রুত রেয়াপাড়া শিবমন্দিরের ওই মাঠের দিকে রওনা দেয়। রেয়াপাড়া আইটিআই কলেজের গেটের সামনে পুলিসের ভ্যানটি আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে দেন চালক সহদেব প্রধান। সেই সময় বেপরোয়া গতিতে থাকা দুষ্কৃতীদের গাড়ি ওই ভ্যানে ধাক্কা মারে। ভ্যান কাত হয়ে গেলে তাতে বসে থাকা একজন এএসআই, একজন কনস্টেবল এবং একজন সিভিক ভলান্টিয়ার পড়ে যান। আরেকবার সজোরে ধাক্কা মেরে দুষ্কৃতীদের ওই গাড়িটি বেরিয়ে যায়। দ্বিতীয় বার ধাক্কা মারার সময় পুলিসের গাড়িটি উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই চালকের মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলে পুলিসের গাড়ির ভাঙা কাচ, লুকিং গ্লাস প্রভৃতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। গোটা ঘটনাটি সিসি ক্যামেরাবন্দি হয়েছে।
এর আগে ১০ এপ্রিল নন্দীগ্রাম থানার তেখালিতে দু’টি ষাঁড় চুরি করে পালানোর সময় পুলিসি অভিযানে চারজন সশস্ত্র দুষ্কৃতী ধরা পড়ে। তাদের কাছ থেকে একটি পাইপগান উদ্ধার হয়। গাড়িটিও পুলিস বাজেয়াপ্ত করেছে। অভিযোগ, বারবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার দুষ্কৃতীরা এসে পূর্ব মেদিনীপুর থেকে ষাঁড় চুরি করে পালাচ্ছে। তার প্রতিবাদে এদিন স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ হয়। 
এদিনের ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার এবং নিহত সহদেবের ময়নাতদন্ত কমান্ড হাসপাতালে করার দাবিতে স্থানীয়রা পথ অবরোধ করেন ও বিক্ষোভে শামিল হন। হাসপাতাল চত্বরে নিহত সহদেবের মা শঙ্করী প্রধান কান্নায় ভেঙে পড়েন। পুলিস কিংবা সিভিক না হয়েও সহদেব রেয়াপাড়া ফাঁড়ির পুলিসের গাড়ি চালাতেন। শঙ্করীদেবী বলেন, ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এদিন রেয়াপাড়া হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ এবং অবরোধে নেতৃত্ব দেওয়া বিজেপির মণ্ডল সভাপতি সৌমিত্র দে বলেন, বাইরের জেলা থেকে দুষ্কৃতীরা এসে ষাঁড় চুরি করছে। এখানকার কিছু লোক সোর্স হিসেবে কোথায় ষাঁড় ঘুরছে, সেই সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করছে। এই ঘটনা আটকাতে পুলিসের ভূমিকা যথাযথ নয়। নন্দীগ্রাম থানার আইসি প্রসেনজিৎ দত্ত এদিন বলেন, অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে গোটা বিষয়টি দেখা হচ্ছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ