সংবাদদাতা, কান্দি: শনিবার সন্ধ্যায় ভরতপুর থানার সৈয়দকুলুট গ্রামের আট বছরের এক শিশুকন্যা নিখোঁজের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গ্রামে তন্নতন্ন করে খুঁজেও তার খোঁজ মেলেনি। এমনকি, পুলিশ কুকুর দিয়ে তল্লাশি চালানো হলেও রবিবার বিকেল পর্যন্ত তার সন্ধান মেলেনি। উৎকণ্ঠায় রয়েছেন পরিবারের লোকজন। শিশুর পরিবারের দাবি, তাকে অপহরণ করা হয়েছে। এমতাবস্থায় সন্ধ্যার পর গ্রামে অচেনা কেউ ঢুকলে আটকে রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী।
দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রীর নাম সোহানা খাতুন। পরিবারের দাবি, শনিবার সন্ধ্যায় খেলা করার কথা বলে সে বের হয়। তার ২০ মিনিট পর থেকেই তার কোনও খোঁজ মিলছে না। গ্রামের দু’টি মসজিদ থেকে মাইকিং করে তার নিখোঁজ হওয়ার কথা জানানো হয়। এরপর কার্যত গোটা গ্রামের মানুষ একজোট হয়ে শিশুকন্যার খোঁজে নেমে পড়ে। পুকুর, খেলার মাঠ থেকে ধানের জমি সর্বত্রই তন্নতন্ন করে খোঁজ চালানো হয়। কিন্তু, কোথাও খোঁজ না মেলায় পুলিশের দ্বারস্থ হয় পরিবার।
পরে ভরতপুর থানার পুলিশ রাতভর তল্লাশি চালালেও কোনও খোঁজ পায়নি। রবিবার গ্রামে পুলিশ কুকুর দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। যদিও তার খোঁজ মেলেনি। ওই থানার এক অফিসার বলেন, তল্লাশি চলছে। দ্রুত শিশুকন্যার সন্ধান মিলবে।
শিশুকন্যার মা সুলতানা খাতুন বলেন, মেয়েকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমার মেয়েকে কেউ অপহরণ করেছে। এখন পুলিশই ভরসা। যদিও রবিবার বিকেল পর্যন্ত ওই পরিবারের কাছে কোনও মুক্তিপণ চেয়ে ফোন আসেনি।
স্থানীয় সিজগ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রাসমিনা বিবির স্বামী তথা তৃণমূলের সিজগ্রাম অঞ্চল সভাপতি আমির হাজমা বলেন, জানতে পারা গিয়েছে রাতেই ওই কন্যাশিশুকে নিয়ে তিনজন নৌকা করে(বাবলা নদীর লোহাদহ ঘাট) পেরিয়েছে। কাজেই এটি অপহরণ ছাড়া কিছুই হতে পারে না। তাই এবার থেকে প্রতিবেশী গ্রামেও বলা হয়েছে, সন্ধ্যার পর গ্রামে অচেনা কেউ এলে তার ছবি তুলে রাখা দরকার। এমনকি, গাড়ি নিয়ে ঢুকলে তারও নম্বরের ছবি তুলে রাখা প্রয়োজন। আরও কড়া নিদান দিয়েছেন সৈয়দকুলুট গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্যা শবনম খাননের স্বামী দুলাল শেখ। তিনি বলেন, আমি বলেছি যে সন্ধ্যার পর গ্রামে অচেনা কেউ ঢুকলে তাকে যেন আটকে রাখা হয়।
ওই শিশুকন্যার পরিবার মোটেই সচ্ছল নয়। কোনওমতে দিনমজুরি করে সংসার চালান শিশুকন্যার বাবা সোহাগ শেখ। শিশুকন্যার দাদু নুরহক শেখ বলেন, আমরা চাই যে কোনওভাবে নাতনিকে খুঁজে বের করা হোক। আমার সঙ্গে কারও কোনও শত্রুতা নেই। কোনও পুরনো শত্রুও নেই। নিজস্ব চিত্র