Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজ্যজুড়ে গাড়ি হাইজ্যাক কাণ্ডের মাথাকে পাকড়াও করতে গিয়ে হামলার মুখে পুলিশ

পণ্যবাহী গাড়ি হাইজ্যাক অপারেশনের মাস্টার মাইন্ডকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়ল পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে নন্দকুমার থানার মল্লিকচকে ওই ঘটনা ঘটে।

রাজ্যজুড়ে গাড়ি হাইজ্যাক কাণ্ডের মাথাকে পাকড়াও করতে গিয়ে হামলার মুখে পুলিশ
  • ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পণ্যবাহী গাড়ি হাইজ্যাক অপারেশনের মাস্টার মাইন্ডকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়ল পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে নন্দকুমার থানার মল্লিকচকে ওই ঘটনা ঘটে। ওয়ারেন্ট হাতে নিয়ে বাহিনী সহ অভিযানে গিয়েছিলেন ওই থানার এএসআই কৃষ্ণেন্দু মণ্ডল। তাঁর হাতের আঙুল ভেঙে দেওয়া হয়। এছাড়া, আরও দুই পুলিশ কর্মী জখম হন। পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে দৌড়ে দেওয়াল টপকে মল্লিকচক অমরস্মৃতি বিদ্যাপীঠ মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রের ভিতরে ঢুকে পড়ে অভিযুক্ত সৈয়দ আলম। তখন সবে পরীক্ষা শেষ হয়েছে। স্কুলের একটি ঘরে ঢুকে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয় আলম। খবর পেয়ে বাড়তি বাহিনী সেখানে গিয়ে তাকে পাকড়াও করে। শনিবার ধৃতকে পূর্ব মেদিনীপুর সিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক জামিনের আর্জি খারিজ করে ১৪দিনের জেল হেপাজত মঞ্জুর করেন।

Advertisement

সি‌঩জেএম কোর্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর সফিউল আলি বলেন, ধৃতের বিরুদ্ধে হাওড়ার ডোমজুড়, পূর্ব মেদিনীপুরের ভবানীপুর, কোলাঘাট, নন্দকুমার সহ বিভিন্ন থানায় মামলা আছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। নন্দকুমার থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
জানা গিয়েছে, ধৃত সৈয়দ আলমের বাড়ি নন্দকুমার থানার মল্লিকচক গ্রামে। তার বাড়ি হাইস্কুলের সামনেই। সে পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি সহ বিভিন্ন জেলায় পণ্যবাহী গাড়ি হাইজ্যাকের মাস্টারমাইন্ড। আলম বাড়িতে থাকত না। যদিও স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্য‌রা মল্লিকচকে থাকে। তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ছিল। শুক্রবার গাড়ি হাইজ্যাকের ওই কিংপিন নন্দকুমারে গ্রামের বাড়িতে রয়েছে বলে পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায়। এএসআই কৃষ্ণেন্দুবাবু ফোর্স নিয়ে তার খোঁজে মল্লিকচক গ্রামের বাড়িতে পৌঁছান। সেই সময় সৈয়দ আলম, তার স্ত্রী ও আরও কয়েকজন পুলিশকে বাধা দেয়। দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। তাতে ওই অফিসারের হাতের আঙুল ভাঙে। সেই সুযোগে বাড়ি থেকে বের হয়ে লাফ দিয়ে স্কুলের প্রাচীর টপকে ভিতরে ঢুকে পড়ে আলম। তার ধারণা ছিল, মাধ্যমিক পরীক্ষার সেন্টার থাকায় পুলিশ ভিতরে ঢুকবে না। কিন্তু, পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ায় পুলিশ ভিতরে ঢুকে তাকে পাকড়াও করে। সেই সুযোগে আলমের স্ত্রী সহ হামলায় অভিযুক্ত অন্যান্যরা চম্পট দেয়।
জানা গিয়েছে, বিভিন্ন থানায় আলমের বিরুদ্ধে পণ্যবাহী গাড়ি হাইজ্যাক করার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরাট গ্যাং রয়েছে। গ্যাংয়ের লিডার সে নিজেই। বাড়িতে না থাকায় পুলিশ তার নাগাল পাচ্ছিল না।  তাকে পাকড়াও করার ফলে এবার গাড়ি হাইজ্যাক সংক্রান্ত অনেক তথ্যই সামনে আসবে বলে পুলিশ মনে করছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ