নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: যে হাত একদিন মেয়ের আঙুল ধরে হাঁটতে শিখিয়েছিল, সেই হাতেই আজ ভর করে চলার কথা বৃদ্ধ বাবার। কিন্তু অভিযোগ, জীবনের সেই শেষ প্রান্তেই মেয়ের হাতে মার খেতে হচ্ছে তাঁকে! হাবড়ায় বৃদ্ধ বাবাকে মারধরের এমনই একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। (যদিও এর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’)
ঘটনাটি হাবড়া পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ডহরথুবা এলাকার। অসুস্থ বাবাকে দেখভালের জন্য নিজের শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন মেয়ে চন্দ্রিমা দে (নাম পরিবর্তিত)। বাসিন্দাদের অভিযোগ, তারপর থেকেই বদলে যায় পরিস্থিতি। শুরু হয় বৃদ্ধের উপর শারীরিক নির্যাতন। পড়শিদের দাবি, সম্পত্তি মেয়ের নামে হস্তান্তরের পর থেকেই বাড়তে থাকে অশান্তি। অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে মারধর পর্যন্ত করা হয়েছে বৃদ্ধকে। এমনকি চোখেও আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পড়শিদের দাবি, সেই আঘাতে বৃদ্ধের একটি চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অভিযোগের এখানেই শেষ নয়। পেট, বুক, গলা—বাদ যায়নি কোনো অংশই। মারধরের জেরে বৃদ্ধ ঠিকমতো কথা বলতেও পারছেন না বলে দাবি বাসিন্দাদের।
মর্মান্তিক ঘটনার একটি ভিডিয়ো মোবাইলে রেকর্ড করেন পড়শিরা। সেটিই পরে ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। স্থানীয় সূত্রের খবর, নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে গেলেও রেহাই মেলেনি। তাঁদের ভয় দেখানো হত বলে দাবি। এমনকি বাবার বিষয়ে বাইরের কেউ নাক গলাতে পারবেন না বলেও জানানো হত বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। হাবড়া থানার পুলিশ অভিযুক্ত মহিলাকে আটক করে। পরে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। আইনি প্রক্রিয়াও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এখন নজর বৃদ্ধের নিরাপত্তায়। তাঁর উপর ফের নির্যাতন হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখবে পুলিশ।