নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নাবালিকাকে উদ্ধারের বিনিময়ে তার মাকে পুলিশ অফিসারের কুপ্রস্তাবের ঘটনায় আজ, বৃহস্পতিবার অভিযোগকারীকে এসপি অফিসে ডাকা হল। বুধবার পুলিস সুপারের অফিস থেকে নন্দকুমার থানার চকশিমুলিয়া গ্রামের ওই নাবালিকার মাকে ফোন করা হয়। এদিনই তাঁকে অফিসে ডেকে পাঠানো হয়। কিন্তু, বিশ্বকর্মা পুজোর জন্য রাস্তায় যানবাহন তেমন না থাকায় তিনি বৃহস্পতিবার অফিসে যাবেন বলে জানান। ইতিমধ্যে পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য ওই ঘটনার তদন্তের জন্য এক পদস্থ অফিসারকে দায়িত্ব দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি অভিযোগকারীর সঙ্গে কথা বলবেন। তারপরই পুলিশ সুপারের কাছে রিপোর্ট জমা পড়বে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
বুধবার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আরও বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন নাবালিকার মা। তিনি বলেন, তদন্তকারী অফিসার আমার মেয়েকে উদ্ধারের আগে অভিযুক্ত যুবকের বাবাকে থানায় তুলে নিয়ে যান। সেইদিন আমাদেরও থানায় ডেকে পাঠানো হয়। আমাদের সামনে ওই ব্যক্তিকে ধমকও দেন পুলিস অফিসার। তাকে গ্রেফতার করার প্রয়োজনীয় নথিপত্রের কাজ সেরে ফেলা হয়। থানা লকআপেও ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন আদালতে গিয়ে দেখি, অভিযুক্ত যুবকের বাবার বদলে ভগ্নিপতিকে তোলা হচ্ছে। খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারি, পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে একজনকে ছেড়ে অন্যজনকে গ্রেফতার করে কোর্টে পাঠিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ২৪মে নন্দকুমার থানার চকশিমুলিয়া গ্রামের ১৫বছরের এক নাবালিকাকে ফুসলিয়ে চম্পট দেয় ওই থানার লছিপুর গ্রামের রাজা খাটুয়া। ওই নাবালিকা নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। মামাবাড়ি থেকে নিজের বাড়ি আসার পথে নিখোঁজ হয় ওই নাবালিকা। বাড়ির লোকজন খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, লছিপুরের যুবক তাকে নিয়ে চম্পট দিয়েছে। ওইদিন নাবালিকার মা নন্দকুমার থানায় এফআইআর করেন। ওই কেসের তদন্তভার পান এক সাব ইন্সপেক্টর। অভিযোগ, দু’-আড়াই মাস কেটে যাওয়ার পরও নাবালিকাকে উদ্ধার নিয়ে হেলদোল ছিল না। বাধ্য হয়ে ওই ছাত্রীর পরিবার তমলুকে এসপি অফিসের দ্বারস্থ হয়। প্রায় তিন মাস বাদে পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করে। উদ্ধার হয় নাবালিকাও।
নাবালিকা উদ্ধারের পর সেদিন বিকেলে তদন্তকারী অফিসার ৫০হাজার টাকা দাবি করেন বলে ওই ছাত্রীর মা জানান। কিন্তু, অত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় জানানোর পর অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার নাবালিকার মাকে কুপ্রস্তাব দিতে শুরু করেন। একবার আম নিয়ে নন্দকুমারের কোয়ার্টারে ডেকে পাঠান। তিনি সরল বিশ্বাসে ননদকে সঙ্গে নিয়ে তদন্তকারী পুলিস অফিসারের জন্য আম নিয়ে যান। এরপর তাঁকে একা যেতে বলা হয়। তাতে রাজি না হলে জেলবন্দি ওই যুবককে জামিন পেতে সাহায্য করবেন বলে হুমকি দেন বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় মঙ্গলবার পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হন ওই নাবালিকার মা। এনিয়ে লিখিত অভিযোগ জানান। বুধবার এই সংক্রান্ত খবর প্রকাশ হতেই শোরগোল পড়ে যায়। তড়িঘড়ি পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।
বুধবার পুলিস সুপার বলেন, অভিযোগকারীকে বৃহস্পতিবার ডাকা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য শোনা হবে। অভিযোগ সত্য হলে কড়া শাস্তি হবে।