Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রতারকের অ্যাকাউন্ট নম্বর ছড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, ডিজিটাল অ্যারেস্টের শিকড় খুঁজতে হিমশিম পুলিস

নবদ্বীপের মায়াপুরে ডিজিটাল অ্যারেস্ট ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিসকে। অনেকটা ‘খড়ের গাদায় সুঁচ খোঁজা’র মতো অবস্থা তদন্তকারীদের।

প্রতারকের অ্যাকাউন্ট নম্বর ছড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, ডিজিটাল অ্যারেস্টের শিকড় খুঁজতে হিমশিম পুলিস
  • ২ জুলাই, ২০২৫ ১৬:০৭
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নবদ্বীপের মায়াপুরে ডিজিটাল অ্যারেস্ট ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিসকে। অনেকটা ‘খড়ের গাদায় সুঁচ খোঁজা’র মতো অবস্থা তদন্তকারীদের। একাধিক সূত্র মিলছে। কিন্তু সেই সূত্র মেলাতে গেলেই খেই হারিয়ে যাচ্ছে তদন্তের গতিপ্রকৃতি। যেমন, কোনও ফোনের সূত্র পেয়ে অভিযানে গিয়েছেন তদন্তকারীরা। গিয়ে দেখছেন, ফোনটাই ভুয়ো। আবার কোনও অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হওয়ার সূত্র পেয়ে ওই গ্রাহককে ধরবেন বলে ঠিক করেছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট গ্রাহক তাঁর অ্যাকাউন্টে লেনদেন সংক্রান্ত কিছুই জানেন না। তিনি জানেনই না, ডিজিটাল অ্যারেস্ট খায় না মাথায় দেয়! অতঃপর, তদন্তকারীরা মোটামুটি নিশ্চিত, একই সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেই অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। তবে, প্রতারণার মূল চক্রটি দেশের কোনও একটি জায়গায় ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে। সেখান থেকেই সাধারণ মানুষকে ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদে ফেলে টাকা লুটছে। তাদের এজেন্টরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে। তারা ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রতারণার টাকা তুলছে। একাধিক লোকের নাম তথ্য পেশ করে সেগুলি খোলা হয়েছে। ফলে, প্রতারণার মূল পান্ডাদের কাছে পৌঁছতে গিয়ে লেজেগোবরে হতে হচ্ছে তদন্তকারীদের। অধরা থেকে যাচ্ছে তারা। স্বাভাবিকভাবেই মায়াপুরে ডিজিটাল অ্যারেস্ট হওয়া কেরলের ওই মহিলার ২ কোটি টাকা আদৌ উদ্ধার করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে পুলিস।  

Advertisement

মাস ছয়েক আগে কেরলের বেটি জোসেফ নামে এক বিধবা মহিলা চার কোটি টাকা খুইয়েছিলেন। তাঁকেও ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্ত করতে নদীয়ায় আসে কেরলের পুলিস। কৃষ্ণগঞ্জ থানা এলাকা থেকে ধরা পড়ে বিজেপির যুব নেতা লিঙ্কন বিশ্বাস‌। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে  ডিজিটাল অ্যারেস্টে প্রতারণার টাকা লেনদেন করা হতো বলে অভিযোগ। যদিও বর্তমানে লিঙ্কন জামিনে রয়েছেন। গ্রামেই ফিরে এসেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।‌ সম্প্রতি চাপড়া থানা এলাকা দু’টি ডিজিটাল অ্যারেস্টের ঘটনা ঘটেছিল। তবে, দু’টি ক্ষেত্রে টাকা খোয়াতে হয়নি কাউকেই। তার আগেই পুলিসি তৎপরতায় তাঁরা রক্ষা পান। এবার নবদ্বীপের নিধি সচান ভেল্লাই নামে এক বিধবা মহিলা ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদে পড়েন। ঘটনাচক্রে জেটি জোসেফের মতো তিনিও কেরলের বাসিন্দা।‌ মুম্বই পুলিসের নাম করে প্রতারিতরা তাঁকে গ্রেপ্তারির ভয় দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে।  ২৭ মে থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত দফায় দফায় প্রতারকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট দু’কোটি টাকা পাঠিয়েছেন। তদন্তে নেমে পুলিস তিনটি মোবাইল নম্বরের হদিশ পেয়েছে।‌ পাশাপাশি যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে তার সঙ্গে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দিনের সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হচ্ছে সাইবার গোয়েন্দাদের তরফ থেকে।‌ নদীয়া জেলাজুড়েই ডিজিটাল অ্যারেস্টের জাল বিস্তার লাভ করেছে। ডিজিটাল অ্যারেস্টের মতো অপরাধের একাধিক ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে পুলিস মহলেরও। 
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এক আধিকারিক বলেন, দেখা যাচ্ছে প্রতারণায় ব্যবহৃত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট গুজরাতের। কিন্তু তার যে ফোন নম্বর দেওয়া রয়েছে তা আবার অসমের। এরকম বিভিন্ন রাজ্যের ফোন নম্বর পাওয়া যাচ্ছে। তাই কোনটা বাস্তব সেটা বোঝা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট ফোন ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আদতে যে প্রতারকের টাকা জমা পড়েছে, সেটাও স্পষ্ট নয়। এসব ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় দেখা যায়, প্রতারকরা অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নেয়। পাশাপাশি ভুয়ো নম্বর ব্যবহার করা হয় প্রতারণার কাজে। ফলে আসল প্রতারকদের নাগাল পাওয়া দুঃসাধ্য হয়ে উঠছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ