Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিশুকে হোম থেকে মুক্ত করতে টাকা ডিসিপিওর বিরুদ্ধে অভিযোগ থানায়

হোম থেকে শিশুকে নিতে গেলে দিতে হবে টাকা। তবেই সরকারি অফিসার হোমের শিশুকে বাবা-মা’র হাতে তুলে দেবেন।

শিশুকে হোম থেকে মুক্ত করতে টাকা ডিসিপিওর বিরুদ্ধে অভিযোগ থানায়
  • ১১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: হোম থেকে শিশুকে নিতে গেলে দিতে হবে টাকা। তবেই সরকারি অফিসার হোমের শিশুকে বাবা-মা’র হাতে তুলে দেবেন। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে খোদ ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসারের বিরুদ্ধে।‌ বিষয়টি সামনে আসতেই নদীয়া জেলা প্রশাসনের অন্দরে শোরগোল পড়েছে।‌ অভিযুক্ত অফিসারের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় এফআইআর করা হয়েছে।‌ জেলা প্রশাসনের দাবি, বিষয়টি রাজ্যস্তরেও  জানাজানি হয়েছে। শীর্ষ মহলের নির্দেশেই থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।‌ পাশাপাশি ওই অফিসারকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অফিসে না আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত ওই অফিসার অনিন্দ্য দাস গোটা বিষয়টিকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন। 

Advertisement

নদীয়া জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদ বলেন, ‘অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছিল। দপ্তরের নির্দেশ মতো থানায় ওই অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।‌ উনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক অফিসার।‌ ওঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। আমরা তা রিনিউ করিনি।‌’
জানা গিয়েছে, ডিসিপিও অনিন্দ্য দাস দীর্ঘদিন ধরে জেলার চাইল্ড প্রোটেকশন ইউনিটে কাজ করছেন। মূলত শিশুশ্রম, নাবালিকা বিয়ে, চাইল্ড হেল্পলাইনের মতো এই বিষয়গুলো তিনি দেখাশোনা করতেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুদের আদালতের নির্দেশে সরকারি হোমে রাখা হয়।‌ তাঁদের প্রশাসনিকভাবে দেখভালের দায়িত্বে থাকতেন অনিন্দ্যবাবু। পাশাপাশি কোন শিশুকে কখন হোম থেকে বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হবে, তা ঠিক করতেন তিনি। তাঁর নির্দেশেই শিশুকে বাড়ির লোকের হাতে তুলে দেওয়া হতো। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, কোনও শিশুকে নির্দিষ্ট সময়ের আগে হোম থেকে মুক্ত করানোর টোপ দিয়েই বাড়ির লোকের থেকে টাকা নিতেন তিনি। 
কয়েক মাস আগে নারী ও শিশু বিকাশ এবং সমাজকল্যাণ দপ্তরে অনন্দ্যবাবুর  নামে একটা অভিযোগ জমা পড়ে। সেইমতো দপ্তরের আভ্যন্তরীণ তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয় বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। হোমের শিশুকে বাড়ির লোকের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নানা সময় টাকা চাইছেন ওই অফিসার। দপ্তরের তরফে সংশ্লিষ্ট অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় জেলা প্রশাসনকে। সেইমতো চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষের দিকে কোতোয়ালি থানায় অনিন্দ্য দাস ও আর এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়। অভিযোগ পত্রে সংশ্লিষ্ট দু’জনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিসও প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, তাঁদের উদ্ধার করা শিশুদের হোম থেকে ছাড়াতে ওই অফিসারকে টাকা দিতে হয়েছে বাড়ির লোককে। দশ হাজার করে টাকা নিতেন। বিগত এক বছর ধরে এই চক্র চলছে। কোতোয়ালি থানার আইসি অমলেন্দু বিশ্বাস বলেন, ‘অভিযোগ দায়ের হয়েছে। মমলা শুরু করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৪২০, ৪০৬, ১২০বি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।’  যদিও অনিন্দ্যবাবুর বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘আমি ডিএম, সেক্রেটারি সহ বিভিন্ন জায়গায় চিঠি লিখেছি। আমাকে শোকজ, আভ্যন্তরীণ তদন্ত না করে কেন আমার সঙ্গে এমন করা হল, তার ব্যাখ্যা চেয়েছি। আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ফাঁসানো হচ্ছে।’  প্রতীকী চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ