নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: মদের দোকানের মাধ্যমেই কি জাল টাকা ছড়ানোর ছক কষা হয়েছিল। জাল নোট সহ ভীমপুরের বিজেপি নেতা দেবব্রত বিশ্বাস গ্রেফতারের পর থেকেই এই প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে। ধৃতকে রবিবার কৃষ্ণনগর আদালত থেকে তিনদিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জাল নোট ছড়ানোয় বিজেপি নেতার ভূমিকা খতিয়ে দেখতে চাইছে পুলিশ। যদিও তাকে বিজেপির নেতা বলতে অস্বীকার করছে গেরুয়া নেতৃত্বরা। তাঁদের সাফ দাবি, দেবব্রত বিশ্বাসের সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। এ ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। আসরে নেমেছে শাসকদল তৃণমূলও। রাজনৈতিক মহলের দাবি, রাজ্যের তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অপরাধ নিয়ে সর্বদা সুর চড়ানোর বিজেপিরই এখন দেবব্রতকে নিয়ে ছুঁচো গেলার অবস্থা।
প্রসঙ্গত, শনিবার সন্ধ্যায় তিনটি পাঁচশো টাকার জালনোট সহ বিজেপি নেতা দেবব্রত বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে ভীমপুর থানার পুলিশ। তার বাড়ি ভীমপুর থানার মাস্টারপাড়া এলাকায়। গোপন সূত্রে খবর পেতেই অভিযানের নামে পুলিশ। সেইমতো ভীমপুর থানার একটি ফোর্স ওই এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে দেবব্রতকে আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে তিনটি ৫০০ টাকার জাল নোট উদ্ধার হয়। জাল নোটের উৎস ও চক্রের সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ভীমপুর এলাকায় মদের দোকান থেকে জাল নোটের মাধ্যমে মদ কেনা হচ্ছিল। কিছু লোক মদ কিনতে গেলেই দোকানদারকে জাল নোট দিচ্ছিল। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। সেইমতো তদন্ত শুরু হয়। দুষ্কৃতীদের খোঁজ শুরু হয়। সেইসঙ্গে সন্দেহভাজনদের কথোপকথনেও আড়ি পাতে গোয়েন্দারা। তাতেই বিষয়টি পরিষ্কার হয় তদন্তকারীদের কাছে। শেষপর্যন্ত দেবব্রত বিশ্বাসের যোগ পাওয়া যায়, এর সঙ্গে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবব্রত বিশ্বাস ওই এলাকার বেশ প্রভাবশালী বিজেপি নেতা। দলীয় নানা কর্মসূচিতেও ওই ব্যক্তিকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায় বলে দব. তাঁদের। সংশ্লিষ্ট ওই এলাকার বেশ কয়েকটি বুথও তাঁর দায়িত্বে রয়েছে।
কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্লক সভাপতি সুশান্ত মণ্ডল বলেন, সমাজে অপরাধকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই যে বিজেপির কাজ সেটাই আরও একবার প্রমাণিত হল। দেবব্রত বিশ্বাস নামে যিনি গ্রেফতার হয়েছেন উনি সক্রিয় বিজেপি নেতা। এলাকায় বিজেপির হয়েও তিনি কর্মসূচি ও প্রচার চালান। তিনিই জাল নোট সহ গ্রেফতার হয়েছেন।
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, আমাদের দলের সঙ্গে দেবব্রত বিশ্বাসের কোনও যোগ নেই। আমাদের দলকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ধৃত ব্যক্তি বিজেপির কেউ নন। এটা তৃণমূল মিথ্যা প্রচার করছে। আসলে সামনেই নির্বাচন, তারা যে সাধারণ মানুষের ভোট পাবে না সেটা বুঝে গিয়েছে তৃণমূল নেতারা।
উল্লেখ্য, কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার অন্তর্গত এই ভীমপুর এলাকায় বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে এই এলাকায় তৃণমূল দাঁত ফোটাতে পারেনি। ভীমপুর পঞ্চায়েতের পাশাপাশি গোটা বিধানসভাতেই পদ্ম শিবির এক চেটিয়া দাপট দেখিয়েছে।