সংবাদদাতা মালদহ: এক সপ্তাহ আগে নৃশংসভাবে খুন হওয়া তৃণমূল কর্মী আবুল কালাম আজাদের খুনের ঘটনায় ধৃত চারজনকেই ফের নিজেদের হেফাজতে নিল ইংলিশবাজার থানার পুলিস। বৃহস্পতিবার খুনের মূল অভিযুক্ত মইনুল শেখ সহ চারজনকে আরও জেরা করার প্রয়োজনে নতুন করে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিস। আদালত দ্বিতীয় দফায় পাঁচদিনের পুলিস হেফাজত মঞ্জুর করেছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে খুনের ঘটনায় ধৃত ও এখনও অধরা অভিযুক্তদের বাড়িতে তল্লাশি করার আইনি অনুমোদন চেয়েও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ইংলিশবাজার থানার পুলিস। একই সঙ্গে অধরা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে জেলাজুড়ে।
জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ওই খুনের ঘটনার তদন্ত জোরকদমে চলছে। ধৃতদের কাছ থেকে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার রয়েছে। তাই তাদের পুলিস হেফাজত প্রয়োজন। এদিন তাই নতুন করে জেরার উদ্দেশ্যে ধৃত চারজনকেই দ্বিতীয়বার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি তিনি বলেন, সব অভিযুক্তদের বাড়িতেও তল্লাশি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি অনুমোদন পাওয়ার জন্য পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন আহত ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কারণ, জমির দালালি সংক্রান্ত বিষয় ছাড়াও ত্রিকোণ প্রেমের একটি বিষয়ও এই খুনের অন্যতম কারণ বলে জানা গিয়েছে। নিহত তৃণমূল কর্মীর স্ত্রী টুম্পা খাতুন ঘটনার দিন জন্মদিনের পার্টিতে ছিলেন না। তিনি অন্ত্বঃসত্তা। কিন্তু যে মহিলাকে নিয়ে আজাদ ওই দিন পার্টিতে হাজির ছিলেন তাঁকে তিনি গোপনে বিয়েও করেছিলেন বলে পুলিসের প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে। ওই মহিলাকে বিয়ে করা নিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের তীব্র রেষারেষি ছিল খুন হওয়া যুবকের, দাবি পুলিস সূত্রের। এছাড়াও জমির দালালি সংক্রান্ত বিরোধ তো ছিলই। সব মিলিয়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি হতেই আগুনে ঘি পড়ে। তারপরই ঘটে যায় ওই নৃশংস ঘটনা। পুলিসের ওই সূত্রের বক্তব্য, খুব তাড়াতাড়ি খুনের মূল কারণগুলি স্পষ্ট হবে। ধরা পড়বে বাকি অভিযুক্তরাও।