সংবাদদাতা, কাঁথি: রামনগর থানার চন্দনপুর-পাটনা এলাকায় পরকীয়া প্রেমের জেরে গৌতম বেরা(৩২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্ত্রী ও তার প্রেমিককে নিয়ে মঙ্গলবার ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ। কাকতালীয়ভাবে মঙ্গলবারই বাড়িতে গৌতমের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান ছিল। আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশী অনেকেই তাঁদের বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। থমথমে পরিস্থিতি। চারদিক শোকের আবহ। তারমধ্যেই বাড়িতে হাজির হয় পুলিশ। পুলিশ গৌতমের স্ত্রী অরণ্যা বেরা ও তার প্রেমিক দীঘার খাদালগোবরার বাসিন্দা অমলেন্দু প্রধানকে নিয়ে এদিন দুপুর নাগাদ বাড়িতে যায়। কীভাবে ঘুমের ওষুধ খাইয়েছিল, গভীর রাতে অমলেন্দুকে ঢোকার জন্য দরজা খুলে দিয়েছিল, কীভাবে দু’জনে মিলে শ্বাসরোধ করে গৌতমকে খুন করেছিল, তারপর অমলেন্দু পালিয়ে গিয়েছিল– একে একে তারা অভিনয় করে দেখায়। এদিন সবটাই খোলসা হয়। ঘটনার পুনর্নির্মাণ চলার সময় এলাকার প্রচুর মানুষজন উপস্থিত ছিলেন।
৩০ আগস্টের ঘটনার পর থেকে গত ১০-১২দিন গোটা গ্রাম এবং রামনগর থানা এলাকায় গৌতম বেরা হত্যকাণ্ড চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরকীয়া প্রেমের কারণে কেউ নিজের স্বামীকে এভাবে খুন করতে পারে, সেটাই ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছেন না তাঁরা। এলাকার বাসিন্দাদের একটাই দাবি, স্বামীর হত্যাকারী অরণ্যা ও তার প্রেমিকের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের কাজ করার সাহস না পায়। উল্লেখ্য, গত ৩০ আগস্ট ঘুমের ওষুধ খাইয়ে প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে শ্বাসরোধ করে খুন করে অরণ্যা। গৌতমের বাবা সুবলচন্দ্র বেরার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রথমে অরণ্যা এবং পরে অমলেন্দুকে গ্রেপ্তার করে। কাঁথি মহকুমা আদালতের নির্দেশে অমলেন্দু বর্তমানে তিনদিনের পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। এদিকে সাতদিনের পুলিশ হেফাজত শেষ হওয়ার পর সোমবার অরণ্যাকে আদালতে তোলা হয়েছিল। বিচারক তদন্তের স্বার্থে ফের সাতদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। তারপর হেফাজতে থাকা অরণ্যা ও অমলেন্দুকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ। গৌতমের ভাই আকাশ বেরা বলেন, দাদা-বউদির মধ্যে অশান্তি ছিল, এটা ঠিক। কিন্তু এভাবে ষড়যন্ত্র করে বউদি দাদাকে সারা জীবনের মতো পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেবে, এটা ভাবতেই পারিনি। দাদার খুনিদের উপযুক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।-নিজস্ব চিত্র