নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: চক্রান্ত করে মুর্শিদাবাদে সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরির চেষ্টা চলছে। ভিন জেলা থেকে, এমনকী বাংলাদেশ থেকেও লাগাতার ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক পোস্ট করা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। চেষ্টা চলছে ধর্মীয় ইস্যুকে উস্কে দিয়ে বড় অশান্তি পাকানোর। উস্কানিমূলক ভিডিও তৈরি করে সেগুলি ভাইরাল করা হচ্ছে, যাতে নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত করা যায়। এই বিষয়ে মানুষকে সচেতন করছে পুলিস। সেই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাগাতার নজরদারি চালানো হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে এ ধরনের বেশকিছু বিদ্বেষমূলক পোস্ট ডিলিট করানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে। সম্প্রতি ওইরকমই একটি ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার দায়ে বহরমপুরের এক যুবককে পুলিস তুলে আনে। বুধবার রাতে ওই বিদ্বেষমূলক ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়। তারপরেই পুলিস তড়িঘড়ি ওই যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে এবং মামলা রুজু করে। ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিসের গোয়েন্দা বিভাগও সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি চালাচ্ছে। বেশ কিছু গ্রুপ এবং সোশ্যাল মিডিয়া পেজ তাদের নজরে রয়েছে। সেখানে লাগাতার বাংলাদেশ থেকে ভিডিও এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য পোস্ট করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিসের নজরে আসামাত্র সেই সমস্ত গ্রুপ ও পেজ থেকে বিতর্কিত ভিডিও ও পোস্ট ডিলিট করানো হচ্ছে। কিছুদিন আগে সামশেরগঞ্জের সুতি ও ধুলিয়ানে যে হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল তার পুনরাবৃত্তি যাতে মুর্শিদাবাদ জেলায় আর কোথাও না ঘটে, তার জন্য তৎপর রয়েছে মুর্শিদাবাদ এবং জঙ্গিপুর জেলা পুলিস।
বহরমপুর থানার আইসি উদয়শঙ্কর ঘোষ বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে আমাদের নজরদারি চলছে। বহরমপুরের ওই যুবক একটি বিদ্বেষমূলক ভিডিও পোস্ট করেছিল। সেটা দেখামাত্রই আমরা ব্যবস্থা নিই। ওই যুবককে থানায় নিয়ে এসে পোস্টটি ডিলিট করানো হয়েছে এবং মামলা রুজু করে ঘটনা তদন্ত চলছে।
জানা গিয়েছে, বহরমপুর থানা এলাকার রাঙামাটি চাঁদপাড়ার এক যুবক তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করে। ভিডিওটিতে এক ধর্মীয় নেতাকে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখতে দেখা যায়। সেখানে ভারতকে অনেক ভাগে ভাগ করার দাবি করেছে ওই ‘ধর্মীয় নেতা’। পাশাপাশি আরও একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ওয়াকফ আন্দোলন নিয়ে ফের মানুষকে রাস্তায় নামার জন্য নির্দেশ দিচ্ছে একটি নয়া রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব। মুর্শিদাবাদ, মালদা, দিনাজপুরের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলায় আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ডাক দিতে দেখা গিয়েছে ওই সংখ্যালঘু নেতাকে। পুলিসের নজরে আসতেই সেই পোস্টও ডিলিট করানো হয়েছে।
জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, সামাজিক মাধ্যম থেকে অনেক সময়ে গুজব এবং বিদ্বেষমূলক পোস্ট ছাড়ানো হচ্ছে। সেগুলির উপর আমরা কড়া নজর রাখছি। প্রয়োজনে যে বা যারা এই ধরনের পোস্ট করছে, তাদের দিয়েই পোস্টগুলি ডিলিট করানো হচ্ছে। অনেকেই জেনেশুনে ইচ্ছাকৃত এই ধরনের পোস্ট করছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে বলব, সমাজ মাধ্যমে কোনও কিছু পোস্ট অথবা বা শেয়ার করার আগে সেগুলির ভিত্তি আছে কিনা এবং তা থেকে কোনও সমস্যা তৈরি হতে পারে কি না, তা বিচার করুন। না হলে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।