নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: চমকে উঠেছিল গোটা রাজ্য। দশম শ্রেণির এক ছাত্র শিক্ষককে মারার জন্য পিস্তল হাতে চড়াও হয়েছিল স্কুল চত্বরে। প্রশ্ন উঠেছিল, ওই কিশোরের হাতে এমন মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র এল কীভাবে। জানা যায়, কিশোরটি বাবার পিস্তল নিয়ে এসেছিল। এরপর থেকেই ওই ছাত্রের বাবা, স্থানীয় তৃণমূল নেতা পলাতক। এই ঘটনাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, গোপীবল্লভপুর-২ ব্লক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির উপর দাঁড়িয়ে। এই ব্লক ঝাড়গ্রামের একেবারে প্রান্তে। এরপরই শুরু হচ্ছে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সীমানা। সেখান থেকেই কি গোপনে ঢুকছে আগ্নেয়াস্ত্র? এলাকায় কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে দুষ্কৃতীদের হাতে বোমা, বন্দুক পৌঁছনোর খবর। ঝাড়গ্রামের ডিএসপি (হেডকোয়ার্টার) সমীর অধিকারী স্বীকার করে নিচ্ছেন, পার্শ্ববর্তী রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে অস্ত্র ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। পুলিস এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ওই ছাত্রের পলাতক বাবাকে ধরার জন্য সবরকম চেষ্টা চলছে।
বছর ঘুরলেই ছাব্বিশের বিধানসভা ভোট। তার আগে দুষ্কৃতীদের দাপাদাপি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দশম শ্রেণির ছাত্রের হাতে পিস্তল আসার ঘটনা পুলিসের রক্তচাপ বাড়িয়েছে। আপাত শান্ত গোপীবল্লভপুরে যা নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ব্লকের বাজার, জনবহুল এলাকায় স্থানীয় দুষ্কৃতীদের পিস্তল হাতে ঘুরে বেড়ানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। ব্লকের ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে দু’টি দুষ্কৃতী গোষ্ঠীর রেষারেষি বাড়ছে। ছয় থেকে সাত মাস আগে বাহারুনা জঙ্গল সংলগ্ন সড়কে পিস্তল বের করে মারধরের ঘটনাও ঘটেছিল। যদিও সেই ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়। দুষ্কৃতীদের হাত দিয়ে এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র ঢোকার সম্ভবনা পুলিস উড়িয়ে দিচ্ছে না। জেলা পুলিসের তরফে এলাকায় তল্লাশিও চালানো হচ্ছে। ব্লকের শাসকদলের দুই গোষ্ঠী আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গিয়েছে। দুই পক্ষের চাপা ঠোকাঠুকি লেগেই আছে। জেলা বিজেপির তরফেও এলাকায় এলাকায় সংগঠন মজবুত করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। গেরুয়া শিবির সামনের বিধানসভা ভোটে গোপীবল্লভপুরে পদ্মফুল ফোটার আশা করছেন। গোপীবল্লভপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি দমদার কোন নেতাকে প্রার্থী করে চমক দিতে পারে, তা নিয়েও চর্চাও চলছে। শাসকদলের অন্দরে স্থানীয় বিধায়কের নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠছে। আসন্ন ছাব্বিশর ভোটযুদ্ধে গোপীবল্লভপুর যে রণাঙ্গন হয়ে উঠতে পারে, তার ইঙ্গিত শাসক ও বিরোধী শিবিরের নেতারাও পাচ্ছেন এবং স্বীকারও করছেন। স্কুল চত্বরে ছাত্রের পিস্তল হাতে ঢুকে পড়ার ঘটনা স্থানীয় রাজনীতির জট সামনে এনে দিয়েছে। বিজেপি শাসিত ঝাড়খণ্ডের সীমানায় গোপীবল্লভপুর-২ ব্লক। পাশের রাজ্য থেকে ব্লকে ঢুকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো সহজ। পূর্বের নির্বাচনগুলিতে বিজেপির এই রণকৌশল ধরা পড়েছিল।
স্থানীয় বিজেপি নেতা সুখলাল মান্ডি এদিন বলেন, শাসকদল এলাকায় নিজেদের ক্ষমতা কায়েম করতে দুষ্কৃতীদের মদত দিচ্ছে। স্কুল ছাত্রটির পলাতক বাবা তৃণমূল নেতা। পুলিস এখনও তাকে ধরতে পারেনি। ধরা পড়লে এলাকায় অস্ত্র কারা আনছে তা প্রকাশ পাবে। জেলা তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতা বলেন, ঝাড়গ্রাম পিছিয়ে পড়া জেলা ছিল। উন্নয়নের হাত ধরে সেই ছবি বদলেছে। জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই ভাবছেন, দিদির উন্নয়ন তাঁদের উতরে দেবে। গাছাড়া মনোভাবের পাশাপাশি একসঙ্গে লড়াই করার মানসিকতাও কমে গিয়েছে। উনিশের লোকসভা ভোটের বিপর্যয় অনেকে ভুলে গিয়েছেন। জেলার ছোটবড় নানা ঘটনা দলের সাংগঠনিক দুর্বলতার সঙ্কেত দিচ্ছে। জেলা তৃণমূল সভাপতি দুলাল মুর্মু বলেন, দলের নেতাকর্মীদের মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রেখে চলার জন্য বলা হচ্ছে।