অভিষেক পাল বহরমপুর
অভিষেক পাল বহরমপুর
এপার থেকে পদ্মা নদী পার করে বাংলাদেশে একটা গোরু পাঠাতে পারলেই প্রচুর টাকা মুনাফা। বর্তমানে কড়াকড়ি চলায় সীমান্তে গোরুপাচার চক্র সেভাবে সক্রিয় নয়। এই সুযোগে বাংলাদেশের পাচারকারীরাই এদেশে অনুপ্রবেশ করে গোরু পাচারের কাজে নেমে পড়ছে। ফরাক্কার জিগরি থেকে এক বাংলাদেশি সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জেরায় এমনই তথ্য জানতে পেরেছে তদন্তকারীরা।
গত ২৮ আগস্ট গভীর রাতে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে পুলিস প্রথমে একজনকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে তার নাম ওয়াসিম আক্রম বলে জানায়। তার বাড়ি বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার অন্তর্গত উজিরপুর তালপট্টি এলাকায়। সূতির জলপথ সীমান্ত পার হয়ে অবৈধভাবে সে এদেশে ঢুকেছিল। তারপর ফরাক্কায় আশ্রয় নিয়েছিল। ভারতে এসে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে চোরাকারবার শুরু করে ওয়াসিম। তাকে আশ্রয় দিয়েছিল সাদ্দাম হোসেন ও মিস্টার শেখ। তাদেরকেও পুলিশ পরে গ্রেপ্তার করে।
জঙ্গিপুর জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশকিছু তথ্য পেয়েছি। ওয়াসিম বাংলাদেশ থেকে এপারে এসে চোরাকারবারের কাজ করত। বিশেষ করে গোরু পাচারের কাজ শুরু করেছিল সে। এই কারবারে আর কারা জড়িত আছে তা জানার চেষ্টা চলছে।
প্রতিবছরই বর্ষাকালে বেশি গোরু পাচার হয়। স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে জোট বেঁধে গোরু পাচার শুরু করেছিল ওয়াসিম এবং তার দলবল। প্রায় দিনই রাতের অন্ধকারে জঙ্গিপুর মহকুমার বেশ কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে গোরু পাচার করার চেষ্টা করছিল তারা। নদীর জল বাড়তেই বিএসএফের নজর এড়িয়ে এক একটি গোরু ওপারে পাঠাতে পারলেই মিলছিল মোটা অঙ্কের টাকা। পুলিশি অভিযানে এই গ্যাংয়ের মাথাদের ধরে ফেলায় পাচার কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে।
তবে গোরুর পাশাপশি মোষ পাচারও শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে পাচারের আগেই রানিতলা থানার নির্মলচর থেকে উদ্ধার হয় ১৪টি পূর্ণবয়স্ক মোষ। গত বৃহস্পতিবার রাতে মদনঘাট ও হারুডাঙা বিএসএফ সীমা চৌকির জওয়ানদের সঙ্গে রানিতলা থানার পুলিস যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে মোষগুলি উদ্ধার করে। তবে কোনও পাচারকারী আটক বা গ্রেপ্তার হয়নি। পদ্মা ফুলেফেঁপে উঠতেই সীমান্তের ভগবানগোলা ও রানিতলা থানার এলাকার পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
নদীর জল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। সম্প্রতি রানিতলা থানার পাতিবোনা রাজাপুরে বিএসএফের ওয়াচ-টাওয়ার পদ্মার ভাঙনে তলিয়ে গিয়েছে। ফলে ওই এলাকায় সীমান্তে নজরদারি চালানো বিএসএফের পক্ষে একপ্রকার চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই মূলত গোরু ও মোষ পাচার চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাছাড়া নদীতে ভরপুর জল থাকায় পশুগুলিকে জলে ভাসিয়ে সহজেই সীমান্ত পার করা যায় বলে পুলিশের দাবি। এপারে সীমান্তবর্তী এলাকার বেশকিছু কারবারি যেমন সক্রিয় হয়েছে, তেমনই ওপারের গোরু পাচারকারীরা মাঠে নেমে পড়েছে।