নিজস্বপ্রতিনিধি, বহরমপুর: বারবার সাম্প্রদায়িক সমস্যায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদ। সামান্য সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট থেকে এর আগে সমস্যা তৈরি হওয়ার নজির রয়েছে। গত এক বছর ধরে লাগাতার সোশ্যাল মিডিয়ায় মনিটরিং শুরু করেছে পুলিশ। শুধুমাত্র ফেসবুক থেকেই ১৩ হাজার পোস্ট ডিলিট করেছে সাইবার ক্রাইম থানা। এর পাশাপাশি শুক্রবার অনলাইনে প্রতারিত হওয়া টাকা উদ্ধার করে প্রতারিতদের হাতে তুলে দিলেন পুলিশ আধিকারিকরা। গত কয়েক মাসে উদ্ধার হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা। মুর্শিদাবাদ জেলা সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশের উদ্যোগে এদিন বিকেলে মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপার কুমার সানিরাজ এবং দুই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মজিদ ইকবাল খান ও রাসপ্রীত সিং উপভোক্তাদের হাতে লক্ষ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন।
পুলিশ সুপার বলেন, ফেসবুক থেকে ১৩ হাজার অপ্রীতিকর ও বিদ্বেষমূলক পোস্ট ডিলিট করা হয়েছে। এছাড়া ৬৬৪টি এটিএম কার্ড বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এক হাজারের কাছাকাছি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে। ২১টি ল্যাপটপ এবং ডেস্কটপ উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২০০টি পাসবুক উদ্ধার করা হয়েছে। কোনও অভিযোগ পেলে আমরা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে টাকা ফেরানোর ব্যবস্থা করছি। সাধারণ মানুষ যেন কোনওভাবেই প্রতারিত না হয় এবং প্রতারিত হলে সঙ্গে সঙ্গে মুর্শিদাবাদ সাইবার ক্রাইম থানায় যোগাযোগ করেন।
জেলার পুলিশ সুপার জানান, ২০২৫সালে মোট ১৩২টি সাইবার প্রতারণা মামলা হয়েছিল। ৪৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। প্রায় ২ কোটি টাকা গত এক বছরে উদ্ধার করেছে সাইবার ক্রাইম থানা। প্রতারণার প্রায় ২০ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে বিভিন্ন ব্যাঙ্কে। প্রতারিত হওয়া ৩ কোটি ২১ লক্ষ টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রতারণার টাকা ফেরত পেয়ে এদিন এক উপভোক্তা বলেন, বিভিন্ন রকম ভাবে সাইবার প্রতারণা চলছে। সাধারণ মানুষ তো সব ব্যাপারে ওয়াকিবহাল নয়। আর সেই সুযোগ লাগাচ্ছে প্রতারকরা। পুলিশ চেষ্টা করছে কিছুটা টাকা উদ্ধার করার। কিন্তু, সবটা তো পারছে না। আমার বেশ কয়েক লক্ষ টাকা খোয়া গিয়েছিল, তার থেকে কিছুটা টাকা ফেরত পেলাম।