নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ‘গাড়িতে ময়নার মাছ নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিসকে দৈনিক সাড়ে ১২লক্ষ টাকা দিতে হয়।’ ময়নায় রাজ্য বিধানসভার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সামনে এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন মৎস্য ব্যবসায়ী পিন্টু দাস। তিনি ময়না ফিস ফার্মার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদকও। মাছের খাবারের গাড়ি আনার পথেও একইভাবে টাকা দিতে হয় বলে তাঁর দাবি। পিন্টুবাবুর বক্তব্যকে সায় দেন আরও একদল ব্যবসায়ী। তাঁদের দাবি, প্রতিদিন ময়না থেকে পাঁচশো মাছের গাড়ি রাজ্যের নানা প্রান্ত ছাড়াও বিহার এবং ওড়িশায় রওনা দেয়। গাড়িপিছু প্রতিদিন আড়াই হাজার টাকা পুলিসকে দিতে হয়। ময়না বাইপাস থেকে তমলুকের নিমতৌড়ি পর্যন্ত চার জায়গায় পুলিসকে সন্তুষ্ট করতে হয়। ময়না-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ আনুখা গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী পিন্টুবাবুর বক্তব্য শুনে চমকে ওঠেন ওই স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা। বিষয়টি বিধানসভায় তুলবেন বলেও তাঁরা আশ্বস্ত করেন।
দু’দিনের সফরে বিধানসভার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটি পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এসেছে। বুধবার ওই টিম ময়নায় পৌঁছয়। কমিটিতে চেয়ারপার্সন তথা চাপড়ার বিধায়ক রুকবানুর রহমান ছাড়াও সদস্য হিসেবে পটাশপুরের বিধায়ক উত্তম বারিক, দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই, কোচবিহার উত্তরের বিধায়ক নিখিলরঞ্জন দে প্রমুখ আছেন। বুধবার ওই কমিটির সদস্যরা ময়না বিডিও অফিসে ফিস ফার্মার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেখানে সংগঠনের সম্পাদক পিন্টু বলেন, এই মুহূর্তে রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাছ সরবরাহ করে ময়না। দুঃখের বিষয় হল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা সত্ত্বেও আমরা সরকারের কাছ থেকে সেভাবে সাহায্য পাচ্ছি না। প্রতিদিন ময়না থেকে ৫০০টি গাড়িভর্তি মাছ এরাজ্য ছাড়াও বিহার, ওড়িশা ও অসমে যায়। প্রতিদিন প্রতিটি গাড়ি থেকে আড়াই হাজার টাকা পুলিসকে দিতে হয়। ৫০০গাড়ির জন্য দৈনিক আমাদের সাড়ে ১২লক্ষ টাকা পুলিসের জন্য খরচ হয়।
পিন্টুবাবু বলেন, আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্যের নানাপ্রান্তে কর্মশালায় যোগ দিই। দু’মাস আগে নদীয়ার নবদ্বীপে গৌড়ীয় মঠে রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রীর সামনেও একই কথা বলেছি। তার আগে তারকেশ্বরে সংগঠনের প্রোগ্রামে পুলিসের জন্য বিপুল পরিমাণ টাকা খরচের বিষয়টি উত্থাপন করি। কিন্তু, অবস্থার কোনও বদল ঘটেনি। আমাদের মাছের গাড়ি একশো শতাংশ ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলে একথা বলছি না। কারণ, গাড়ির উপর মোটর বসানো থাকে। এটা করা যায় না। তারপরও আমাদের এটা করতে হয়। কিন্তু, এজন্য সরকার একটা নিয়ম করে দিতে পারে। দিনের পর দিন পুলিসি জুলুম সহ্য করতে গিয়ে আমাদের নাভিশ্বাস অবস্থা হয়ে যাচ্ছে। মাছের গাড়ি ছাড়াও মাছের খাবারের গাড়ি আনার পথে একই ঝক্কি পোহাতে হয়। তখন তো গাড়িতে মোটর বসানো থাকে না। গাড়িতে জলভর্তি থাকে না। তবুও পুলিসকে টাকা দিতে হয়।
স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারপার্সন রুকবানুর রহমান বিষয়টি নোট করেন। দৈনিক সাড়ে ১২লক্ষ টাকার কথা শুনে অবাকও হন। কমিটির অপর সদস্য লক্ষ্মণ ঘোড়ই বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে বিধানসভায় সরব হন। পুলিসি জুলুম থেকে ময়নার মাছ ব্যবসায়ীদের রক্ষা করতে হবে। অতিরিক্ত পুলিস সুপার(ট্রাফিক) শ্যামল মণ্ডল বলেন, দৈনিক সাড়ে ১২লক্ষ টাকার বিষয়টি অবিশ্বাস্য লাগছে। এসম্পর্কে কিছু জানা নেই।