Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফিল্মি কায়দায় গোরু ভর্তি ট্রাকের সামনে পুলিসের গাড়ি, ধাক্কায় জখম কনস্টেবল

জাতীয় সড়ক ধরে দ্রুতগতিতে ছুটছে গোরুভর্তি লরি। উপরে ছাউনি রয়েছে।

ফিল্মি কায়দায় গোরু ভর্তি ট্রাকের সামনে পুলিসের গাড়ি, ধাক্কায় জখম কনস্টেবল
  • ২৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: জাতীয় সড়ক ধরে দ্রুতগতিতে ছুটছে গোরুভর্তি লরি। উপরে ছাউনি রয়েছে। পিছনের ফাঁকা অংশ থেকে বেশ কয়েকটি গোরু দেখা যাচ্ছে। জাতীয় সড়কে দাঁড়িয়ে ছিল শক্তিগড় থানার পুলিসভ্যান। প্রথমে তারা লরিটি দাঁড় করানোর চেষ্টা করে। চালক লরি না থামিয়ে গতি বাড়িয়ে দেয়। ধাওয়া করে পুলিসের গাড়ি। কিছুটা পথ যাওয়ার পর গাড়িটি ওভারটেক করে। সিনেমার কায়দায় লরির সামনে পুলিসের গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়ে। নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে লরিটি পুলিসের গাড়িতে ধাক্কা মারে। পিছন থেকে একটি ডাম্পার এসে গোরুভর্তি লরিতে ধাক্কা মারে। রাস্তায় ছিটকে পড়ে প্রায় ২৯টি গোরু। তাতে কয়েকটি গোরু মারা যায় বলে অভিযোগ। মেমারি থানার কুমারডাঙা এলাকায় ওই দুর্ঘটনার জেরে বেশ কিছুক্ষণ যানজট তৈরি হয়। পরে পুলিস এসে লরি এবং গাড়ি সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। দুর্ঘটনায় এক পুলিসকর্মী জখম হয়েছেন। 

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গোরুভর্তি লরিটি বর্ধমান থেকে হুগলির দিকে যাচ্ছিল। লরিটির গতি প্রথম থেকেই অনেক বেশি ছিল। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, জখম গোরুগুলির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গোরু নিয়ে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত নথি চালকের কাছে ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লরির চালক এবং খালাসি জখম হয়েছেন। পুলিসের গাড়ির চালকও জখম হয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মেমারি থানার পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে জখমদের উদ্ধার করে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রাতের দিকে জাতীয় সড়ক ধরে বেপরোয়াভাবে লরি বা ট্রাক চলে। সন্দেহবশত পুলিস কোনও গাড়ি দাঁড় করানোর চেষ্টা করলেও থামে না। অনেক সময় চালকরা ইচ্ছেকৃতভাবে ধাক্কা মারে। এক্ষেত্রেও তেমনটা হয়েছিল কি না বোঝা যাচ্ছে না।
জাতীয় সড়ক ধরে গোরু পাচারের ছবি নতুন কিছু নয়। এর আগে বিলাসবহুল বাসে গোরু পাচারের চেষ্টা করা হয়েছিল। মেমারি থানা এলাকায় বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। কয়েকটি গোরু রাস্তায় ছিটকে পড়ে। পরে পুলিস বাসে উঠলে চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড় হয়। বাসের সিট সরিয়ে পরপর প্রায় ৪০টি গোরু দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশে পাচারের জন্য ভিনরাজ্য থেকে গোরু নিয়ে আসা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং হরিয়ানার সিন্ডিকেট গোরু পাচারে সক্রিয় রয়েছে। তারাই রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন কৌশলে গোরু পাচারের চেষ্টা করে। কন্টেনারে তুলেও গোরু পাচার করা হয়েছে। সেকারণে জাতীয় সড়কে পুলিস নজরদারি বাড়িয়েছে। কোনও ট্রাক বা লরিতে গোরু দেখলে তা ধরার চেষ্টা করে পুলিস। কিন্তু চালকরা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর জন্য হামেশাই দুর্ঘটনা ঘটে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ