Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জমির ধান কার? বিবাদ মেটাতে গিয়ে মাথা ফাটল আইসির, উত্তপ্ত গোকর্ণ

জমির পাকা ধান কে কাটবে? ফয়শালা করতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন খোদ থানার আইসি। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা বেধড়ক মারধর করে তাঁকে।

জমির ধান কার? বিবাদ মেটাতে গিয়ে মাথা ফাটল আইসির, উত্তপ্ত গোকর্ণ
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: জমির পাকা ধান কে কাটবে? ফয়শালা করতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন খোদ থানার আইসি। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা বেধড়ক মারধর করে তাঁকে। শাবলের আঘাতে তাঁর মাথা ফেটে যায়। শুক্রবার দুপুরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেতে উঠল মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার অন্তর্গত গোকর্ণ-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। আইসি সহ জখম হয়েছেন থানার আরও দুই পুলিশকর্মী। এমনকী, এক পুলিশকর্মীর গলায় হাসুয়া ধরে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া বলে অভিযোগ। জখম পুলিশ কর্মীদের উদ্ধার করে গোকর্ণ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর আইসিকে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিটি স্ক্যান করানোর জন্য পাঠানো হয়েছে। মুর্শিদাবাদের এসপি কুমার সানিরাজ বলেন, আইসি সহ তিনজন জখম হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে গোকর্ণ-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় চার বিঘা চাষের জমি নিয়ে একটি বিবাদ তৈরি হয়। পাকা ধান কে কাটবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গোলমাল চলছিল। তার মধ্যেই পুলিশের তরফ থেকে হারভেস্টার মেশিন এবং ট্রলার নিয়ে এসে ধান কেটে ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। তখনই গ্রামবাসীরা বাধা দেয়। পুলিশের সঙ্গে বচসা ও মারামারি শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইঁট ছোড়ে। ঘটনাস্থলে এলাকার কিছু দুষ্কৃতীও চলে আসে। তাদের হাতে থাকা ঝোলার মধ্যে বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং এসডিপিও সহ বেশ কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মহিলা সহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। 
জমিতে ধান কাটার কাজ করছিলেন জিয়ারুল হক। তিনি বলেন, ওদের হাতে বোমা, শাবল সবকিছু ছিল। প্রথমে আমাকে একটা ইঁট ছুড়ে মারে। আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। ওরা যখন আমাকে মারছিল পুলিশ পাশেই ছিল। আমি মার খাওয়ার পর আইসি সাহেবকে খবর দেওয়া হয়। তারপর উনি আসেন। 
জমিতে হার্ভেস্টার চালাচ্ছিলেন জালালউদ্দিন শেখ। তিনি বলেন, জমিতে ধান কাটার জন্য গাড়ি এসে লাগালাম। গ্রামের লোক এসে আমাদের বলছে, জমিতে ধান কাটা যাবে না। আমরা ঝামেলার জায়গায় কাজ করব না বলে, তখনই কাজ বন্ধ করে দিই। তারপর পুলিশ প্রশাসন এসে ফয়শালা করে দিল যে, তোমরা ধান কাটো। আমরা ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে ধান রাখব। তখন পুলিশের আশ্বাস পেয়ে আমরা ধান কাটার গাড়ি চালাতে শুরু করলাম। তখন ঝোলা ভর্তি বোমা এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসে তাড়া করে দুষ্কৃতীরা। পাশেই পুলিশ ছিল। এক পুলিশ অফিসারের গলায় হাসুয়া ধরে গ্রামবাসীরা। তারপর এসব শুনে যখন আইসি সাহেব আসেন, তখন ওর মাথায় শাবল দিয়ে আঘাত করে। আমার বাইক ও ধানকাটার গাড়িতে ভাঙচুর করেছে। 
এদিনের এই ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি মলয় মহাজন বলেন, আজকের এই গণ্ডগোল পুলিশের কারণেই বেড়েছে। পুলিশ যাওয়ায় একপক্ষ মনে করেছে, পুলিশ অপরপক্ষের হয়ে সমঝোতা করতে এসেছে। তাই হয়তো হামলা। কেউ নিজের কষ্টার্জিত ফসল অন্য কারও হাতে ছেড়ে দেবেন না। এটাই স্বাভাবিক। তৃণমূলের বর্ষীয়াণ নেতা অশোক দাস বলেন, পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সব সময় চেষ্টা করে।  এদিন যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি হবে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ