নিজস্ব প্রতিনিধি, বোলপুর: বোলপুর হাসপাতালে জবরদখল উচ্ছেদে যৌথ অভিযানে নামল পুলিশ ও প্রশাসন। শুক্রবার দুপুরের অভিযানে ছিলেন বোলপুর মহকুমার ম্যাজিস্ট্রেট পদপর্যাদার এক আধিকারিক, শান্তিনিকেতন থানার অফিসার ইনচার্জ ডলি মণ্ডল সহ হাসপাতালের পদস্থ কর্তারা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে হাসপাতালে জবরদখলকারী অবৈধ দোকানদারদের উঠে যেতে নোটিস দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। যদিও তারপরেও দোকানদাররা হাসপাতাল চত্বরে ছেড়ে কোথাও যাননি। সেই কারণেই এদিনের অভিযান বলে জানা গিয়েছে।
বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে হকার-রাজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অতিষ্ঠ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একটা দু’টো করে বাড়তে বাড়তে বর্তমানে একগুচ্ছ অস্থায়ী দোকান, হকার, ফেরিওয়ালার ভিড়ে কার্যত হাসপাতাল চত্বরে পা ফেলা দায়। সেইসব দোকানের আবর্জনা ফেলে দেওয়া হয় যত্রতত্র। যার ফলে সারাক্ষণই নোংরা হয়ে থাকে হাসপাতাল চত্বর। শুধু তাই নয়, সেই সঙ্গে রয়েছে অবৈধ পার্কিং। হাসপাতালের যেখানে সেখানে বাইক রাখা হচ্ছে। হাসপতালের ভিতরেও রাশ নেই টোটোর। যাঁদের হাসপাতালের সঙ্গে দূরদূরান্তের কোনও সম্পর্ক নেই, তাঁরাও হাসপাতালে গাড়ি রেখে বাইরের কাজ সারছেন। এরফলে চরম সমস্যায় রোগী ও তাঁদের পরিজনকে পড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি বাইরের লোকজনের অবাধ আনাগোনায় বিঘ্নিত হচ্ছে হাসপতালের নিরাপত্তাও।
হাসপতালের এক কর্তা বলেন, যেভাবে ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ দোকান গজিয়ে উঠেছে, তারফলে হাসপাতালের সুস্থ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমরা বারংবার সরব হয়েছি। দোকানদারদের উঠে যেতে বলা হয়েছে বহুবার। নোটিসও করা হয়। যদিও দোকানদাররা আমাদের কথায় কান না দেওয়ায় পুলিশ-প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দাবি জানিয়েছিলাম। ওই কর্তা আরও জানান, হাসপাতালের মূল গেট থেকে শুরু করে গোটা হাসপাতাল চত্বরেই যত্রতত্র সাইকেল, স্কুটি, বাইক, টোটো পার্কিং করা হচ্ছে। ফলে প্রতিদিনই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা রোগী ও তাঁদের পরিজনদের। নিরাপত্তারক্ষীদের দিয়ে মাঝেমধ্যে সকলকে নিষেধ করা হয়। তবুও এরা কারও কথা শোনে না।
এদিনের অভিযানে পুলিশ-প্রশাসনের কর্তাদের রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিতে দেখা যায় অবৈধ দোকানদার থেকে শুরু করে টোটো চালকদের। অনেকে কথা না বাড়িয়ে তড়িঘড়ি দোকান গুটিয়ে নেন।