Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরষের মধ্যেই ভূত! পুলিশের বিরুদ্ধে বাড়িতেই হেরোইন রাখার অভিযোগ

মাদক মামলায় ফাঁসাতে গভীর রাতে এক ব্যক্তির বাড়িতে ঢুকে হেরোইন রাখার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে।

সরষের মধ্যেই ভূত! পুলিশের বিরুদ্ধে বাড়িতেই হেরোইন রাখার অভিযোগ
  • ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: মাদক মামলায় ফাঁসাতে গভীর রাতে এক ব্যক্তির বাড়িতে ঢুকে হেরোইন রাখার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। রবিবার রাতে লালগোলা থানার নশিপুর পঞ্চায়েতের জাগরপাড়ায় এমন অভিযোগে শোরগোল পড়ে যায়। গ্রামবাসীরা ওই বাড়িতে ছুটে আসেন। পুলিশকর্মীদের বেশ কিছুক্ষণ একটি ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়। অবশেষে গ্রামবাসীদের বাধার মুখে পড়ে লালগোলা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক ও অন্য পুলিশকর্মীরা খালি হাতেই থানায় ফেরেন। যদিও ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য বলে দাবি করেছে পুলিশ।

Advertisement

ভগবানগোলার এসডিপিও বিমান হালদার বলেন, গোপন সূত্রে আমরা খবর পেয়েছিলাম, জাগরপাড়ার এক ব্যক্তির বাড়িতে হেরোইন মজুত রাখা হয়েছে। সেইমতো ওইদিন গভীর রাতে অভিযান চালানো হয়। বাড়িতে তল্লাশির সময় বিছানার নীচ থেকে ৩০০গ্রাম হেরোইন বাজেয়াপ্ত হয়। বিপদ বুঝে ওই ব্যক্তি নিজের আত্মীয় ও গ্রামবাসীদের ডাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শতাধিক লোকজন জড়ো হয়। তারা এই অভিযোগ তোলে যে, পুলিশ হেরোইন সঙ্গে করে এনে ঘরে রেখে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। এমনকি, পুলিশকর্মীদের উপর হামলা করতে উদ্যত হয় তারা। পরিস্থিতি বিচার করে পুলিশ খালি হাতেই ফিরে আসে। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তি এপিডিআরের সঙ্গে যুক্ত। তাকে বাঁচাতেই পরিকল্পিতভাবে পুলিশের বদনাম করার চেষ্টা হয়েছে।
জাগরপাড়ার ওই বাসিন্দা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত। রবিবার গভীর রাতে লালগোলা থানার পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের বক্তব্য, ওই বাড়িতে শোওয়ার ঘরে বিছানার নীচ থেকে তিনটি প্যাকেটে ৩০০গ্রাম হেরোইন পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু ওই ব্যক্তির স্ত্রী বলেন, রাত আড়াইটে নাগাদ কয়েকজন পুলিশকর্মী জোর করে আমাদের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তাদের একজন আমার স্বামীর জামার কলার চেপে ধরে গালে কয়েকটা চড় বসিয়ে দেয়। তারপর পিছমোড়া করে স্বামীর দুই হাত ধরে রেখে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। জিজ্ঞাসা করে, কোথায় হেরোইন রেখেছিস বের কর। এরপর একজন পুলিশ পাশেই অন্ধকার ঘরে ঢুকে যায়। কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে হেরোইনের প্যাকেট নিয়ে বেরিয়ে আসে। আমার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতেই পুলিশ হেরোইন সঙ্গে নিয়ে এসেছিল।
অভিযুক্তের দাদা বলেন, ওইদিন রাত প্রায় ৩টে নাগাদ ভাইয়ের বউ ফোন করে পুলিশের অভিযানের কথা জানায়। খবর পাওয়া মাত্র আমি চলে আসি। মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানোর চক্রান্তের প্রতিবাদ করলে লালগোলা থানার ওসি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। ইতিমধ্যে পাড়াপড়শি ও গ্রামের লোকজন চলে আসেন। সমবেত প্রতিরোধের মুখে পড়ে ওসি সহ পুলিশকর্মীরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।  প্রতীকী চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ